গত সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের একাধিক গাড়ি ও ই-রিকশা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি গাড়ি থেকে বিস্ফোরণ (Car Blast) হয়েছে। কিন্তু লালকেল্লার (Red Fort) মতো ঘটনা কি আরও ঘটতে পারে? সন্দেহ এবং আতঙ্ক রয়ে যাচ্ছে কারণ এই বিস্ফোরণ মামলায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সূত্রের খবর, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই-২০ (Hyun i20) ছাড়াও অভিযুক্ত আত্মঘাতী বোমারু উমর নবি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিল্লি থেকেই আরও দু’টি গাড়ি কিনেছিলেন। গাড়িগুলির বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি, তবে তদন্তকারীদের আশঙ্কা, এই গাড়িগুলিও সন্ত্রাসের নেটওয়ার্কে (Terror Network) ব্যবহৃত হয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এমনও হতে পারে ওই দুটি গাড়িতেও বিস্ফোরক মজুত করা এবং অন্য কোনও পরিকল্পনায় তা ব্যবহার করার ছক ছিল বা আছে।
গত সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের (Red Fort Metro Station) গেট নম্বর ১-এর কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের একাধিক গাড়ি ও ই-রিকশা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত উমর নবি কাশ্মীরের বাসিন্দা এবং পেশায় চিকিৎসক। তাঁর পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) সঙ্গে যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। উমরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কাশ্মীরের বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী আমির রশিদ মির, যিনি ও তাঁর পরিবার মিলে উমরকে সাহায্য করতেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সমস্ত নথি যেমন - আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফোন রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ভ্রমণ ইতিহাস খতিয়ে দেখছেন। আমির রশিদের পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ চলছে তাঁর ভাই উমর রশিদ (৩০) এবং আরও এক সন্দেহভাজন তারিক মালিকেরও। যদিও এখনও কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়নি।
একইসঙ্গে নজরে রয়েছেন ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ডঃ শাহিন সাঈদ। তাঁর গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ গুলি। তদন্তে উঠে এসেছে, শাহিন ভারতে জইশের নারী শাখা জামাত উল-মোমিনাত-এর নেতৃত্বে ছিলেন। পাকিস্তানে এই সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন জন চিকিৎসককে আটক করা হয়েছিল, তবে তাঁদের কোনও সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যোগের প্রমাণ মেলেনি বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক অধ্যাপক, কাশ্মীরের মুজাম্মিল গনাই ওরফে মুসাইব এখনও হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক, যা লালকেল্লা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ।
ইতিমধ্যে এও জানা গেছে, আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day) দিন আরও বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল। লালকেল্লা (Red Fort) এলাকায় সেই কারণে রেকি করা হয়। শুধু প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়, দীপাবলির (Diwali) সময়ও কোনও ভিড়ভাট্টা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক কষা হয়েছিল।