দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় যে বিস্ফোরণ ঘটেছে তার পিছনের অন্যতম কাণ্ডারি এই শাহিন। তাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার মামলার সূত্রেই তাকে পাকড়াও করা হয়েছিল।

শাহিন সাইদ
শেষ আপডেট: 12 November 2025 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যিনি এতদিন নিঃশব্দে ছিলেন, পেশাদার জীবনের আড়ালে থাকছিলেন তাকেই এখন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) নারী শাখার মূল সংগঠক বলে দাবি করছে! কথা হচ্ছে, লখনউয়ের (Lucknow) বাসিন্দা চিকিৎসক শাহিন সাইদের (Doctor Shaheen Saeed)।
দিল্লির লালকেল্লা (New Delhi Red Fort) এলাকায় যে বিস্ফোরণ ঘটেছে তার পিছনের অন্যতম কাণ্ডারি এই শাহিন (Shaheen Saeed)। তাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। হরিয়ানার ফরিদাবাদে ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার মামলার সূত্রেই তাকে পাকড়াও করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভারতে জইশের নারী সংগঠন জামাত উল-মোমিনাত গঠনের দায়িত্বই দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পাকিস্তানে এই শাখার নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠক মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার।
ফরিদাবাদ (Faridabad) ও দিল্লি-সংলগ্ন এলাকা জুড়ে তাঁর কার্যকলাপ চলছিল গোপনে। সূত্রের খবর, শাহিন সাইদ আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপিকা হিসেবে কাজ করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানিয়েছেন, “ওঁর আচরণ অনেক সময় অস্বাভাবিক মনে হত। অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতেন। তাঁর সঙ্গে অনেক অচেনা মানুষ দেখা করত। অভিযোগও করা হয়েছিল কর্তৃপক্ষের কাছে।” ওই অধ্যাপক আরও বলেন, “আমরা কখনও ভাবিনি উনি এমন কোনও কাজে জড়িত থাকতে পারেন। এখন তদন্তে যা বেরোচ্ছে, তাতে সব পরিষ্কার হচ্ছে।”
এনআইএ (NIA) ইতিমধ্যেই দিল্লি বিস্ফোরণ মামলার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তদন্তকারীরা শাহিনের ব্যক্তিগত নথি, পূর্ববর্তী কর্মস্থল ও যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, শাহিনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই ওরফে মুসাইব, যিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ভাড়া করা দু’টি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, আগুন ধরানো রাসায়নিক ও সরঞ্জাম। গনাইকে গ্রেফতারের পর জানা যায়, শাহিনের নামে থাকা মারুতি সুইফট গাড়িটি ব্যবহার করা হত অস্ত্র মজুত করতে। গাড়িটি থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পিস্তল এবং গুলিও উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন মনে করছেন, ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাটির সঙ্গে দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের যোগ রয়েছে। সোমবার সন্ধেয় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে। এখন শাহিনের গাড়ি ও ফোনের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে এও জানা গেছে, আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day) দিন আরও বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। লালকেল্লা (Red Fort) এলাকায় সেই কারণে রেকি করা হয়। শুধু প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়, তদন্ত সূত্রের দাবি, মুজাম্মিল এও স্বীকার করেছেন যে, দীপাবলির (Diwali) সময়ও কোনও ভিড়ভাট্টা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।