উঠে এল নতুন এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের জানিয়েছেন অন্যতম অভিযুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল বিস্ফোরণের আগেই ডাঃ উমর মহম্মদের সঙ্গে লালকেল্লা এলাকায় রেকি করেছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়াদিল্লির (New Delhi) লালকেল্লা বিস্ফোরণ (Red Fort Blast) মামলায় উঠে এল নতুন এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের জানিয়েছেন অন্যতম অভিযুক্ত ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল বিস্ফোরণের আগেই ডাঃ উমর মহম্মদের সঙ্গে লালকেল্লা এলাকায় রেকি করেছিলেন। সূত্রের খবর, মুজাম্মিলের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে জেরা করা হয়। তদন্তে তিনি স্বীকার করেছেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day) দিন আরও বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। লালকেল্লা (Red Fort) এলাকা সেই প্রস্তুতিরই অংশ ছিল।
শুধু প্রজাতন্ত্র দিবসে নয়, তদন্ত সূত্রের দাবি, মুজাম্মিল এও স্বীকার করেছেন যে, দীপাবলির (Diwali) সময়ও কোনও ভিড়ভাট্টা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং অভিযুক্ত উমর মহম্মদ দু’জনেই ফারিদাবাদের (Faridabad) আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী ছিলেন। সোমবার সন্ধেয় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে যে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেই গাড়িতেই উমর ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে, এই বিস্ফোরণ যারা ঘটিয়েছে তারা 'হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম' (White Collar Terror Ecosystem) নামের এক সংগঠিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের (Terror Network) সদস্য। সকলেই উচ্চশিক্ষিত এবং অধিকাংশই চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন - এই গোষ্ঠী এনক্রিপটেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করত মতাদর্শ প্রচার, তহবিল স্থানান্তর এবং লজিস্টিক সমন্বয়ের জন্য। পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগাযোগের মাধ্যমেই অর্থ সংগ্রহ করা হত, যা সামাজিক বা মানবিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হত।
লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটিও পরিকল্পনামাফিক হামলা ছিল না। গাড়িতে থাকা সন্দেহভাজন আতঙ্কে ভুল করে বিস্ফোরক সক্রিয় করে ফেলেছিল। আসলে এই ঘটনার কয়ের ঘণ্টা আগেই ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক রাসায়নিক উদ্ধার এবং সারাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান হচ্ছিল। এই কারণেই সন্দেহভাজনরা লুকিয়ে পড়ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, স্থান পরিবর্তন বা বিস্ফোরক সরানোর সময়ই গাড়ির ভিতরে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে গেছে।
ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে দেখা গেছে (Delhi Blast Investigation), সেখানে কোনও গর্ত বা ধাতব টুকরো ছড়িয়ে ছিল না, যা সাধারণত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই তথ্য থেকেই তদন্তকারীরা বুঝেছেন, এটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ, ইচ্ছাকৃত বা আত্মঘাতী হামলা নয়।