মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত হন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, 'ভারতের মদতপুষ্ট কিছু গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত।'

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসলামাবাদের মর্মান্তিক বিস্ফোরণ (Islamabad Blast) নিয়ে ফের তীব্র কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। মঙ্গলবার ভারত সরকার (India) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (PM Shehbaz Sharif) করা অভিযোগ একেবারেই 'ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।' নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের নেতৃত্ব এখন ভীষণ অস্থির, তাই নিজেদের রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের নজর সরাতে তারা মিথ্যা বয়ান রটাচ্ছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত হন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাক প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, 'ভারতের মদতপুষ্ট কিছু গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত।' তাঁর এই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) বলেন, "ভারত দৃঢ়ভাবে পাকিস্তানের এই মিথ্যা ও হাস্যকর অভিযোগ খারিজ করছে। এটা তাদের পুরনো কৌশল, নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও সেনাবাহিনীর বাড়তি প্রভাব থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে ভারতের নামে মনগড়া গল্প ছড়ানো।"
ভারতের দাবি, "পাকিস্তান এখন বড়সড় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আছে। সম্প্রতি শাহবাজ সরকার সংবিধান বদলে 'চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস' নামে নতুন একটি পদ তৈরি করেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে।" তাই সেই বিষয় থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই পাক সরকার ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনছে বলে মনে করছে দিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, "আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানের এই নাটকীয় প্রচার সম্পর্কে ভালভাবেই জানে, তাই কেউ এই বিভ্রান্তিকর কৌশলে সহজে প্রভাবিত হবে না।"
অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি জানিয়েছেন, আত্মঘাতী হামলাকারী আদালতের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বাইরে একটি পুলিশের গাড়ির কাছে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ১২ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
যখন শাহবাজ শরিফ ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন, তখন তাঁরই মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ পরোক্ষভাবে আফগানিস্তানের তালিবানকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছেন। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ইসলামাবাদে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের নেপথ্যে কে বা কারা, তা নিয়ে পাকিস্তানের ভেতরেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও মতভেদ।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই বিস্ফোরণের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ভারতের রাজধানী দিল্লির লালকেল্লার কাছেই একটি বিস্ফোরণ ঘটে। দুই দেশের রাজধানীতে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।