পুলিশ ও দমকলের প্রাথমিক অনুমান, বেআইনি গ্যাস রিফিলিংয়ের সময়, অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

সুরাতের চারতলা বাড়িটিতে পরপর বিস্ফোরণ ঘটে
শেষ আপডেট: 19 March 2026 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের সুরাতে ভয়াবহ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে (Surat gas cylinder blast) মৃত্যু হল দু’জনের, আহত অন্তত ১১ জন। বৃহস্পতিবার ভোরে চারতলা একটি বাড়িতে পরপর বিস্ফোরণের জেরে (Surat LPG Explosion) এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৮টি এলপিজি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও দমকলের প্রাথমিক অনুমান, বেআইনি গ্যাস রিফিলিংয়ের সময় (Surat Illegal gas Refilling), অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাটি ঘটে ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা নাগাদ, ভরত নগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটিতে। একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর দ্রুত আগুন (Surat Fire Incident) ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের বাড়িগুলিও কেঁপে ওঠে, এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
দমকল সূত্রে জানা গেছে, ভবনের ৪৬ ও ৪৭ নম্বর ইউনিটে প্রথমে কোনও অজ্ঞাত কারণে আগুন লাগে। এরপর ভিতরে মজুত থাকা একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ শুরু হয়, যার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িটির তিনতলায় একটি টিনের ছাউনি থাকায় কয়েকজন ভিতরেই আটকে পড়েন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল বাহিনী। চারটি ফায়ার স্টেশন থেকে একাধিক ইঞ্জিন পাঠানো হয় উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে। হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দমকলকর্মীরা টিনের ছাউনি কেটে ও লোহার চাদর ভেঙে ভিতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করেন।
মোট ১১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, বাকি ৯ জনের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
দমকলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগুন লাগার খবর আসে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারগুলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্ধার অভিযানে এক দমকল আধিকারিক সামান্য আহত হন, তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দমকলের শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং কীভাবে এই ভয়াবহ আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান পর্যাপ্ত রয়েছে, সেই নিয়ে বারবার প্রচার চালাচ্ছে কেন্দ্র। কোথাও কোনও পরিস্থিতিতেই যাতে কালোবাজির বা বেআইনি মজুতের ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও কড়া নজর রয়েছে সরকারের। তার মধ্যেই এরকম ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের, বলাই বাহুল্য। তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে, এমনটাই খবর পুলিশ সূত্রে।