কেন্দ্রের দাবি, বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকদের হাতে সিলিন্ডার পৌঁছে যাচ্ছে এবং সেই সময়সীমায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। একই সঙ্গে কালোবাজারি রুখতে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী।

বুকিংয়ের ব্যবধান নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্র
শেষ আপডেট: 13 March 2026 08:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে রান্নার গ্যাস সরবরাহ (global fuel crisis) নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বুকিংয়ের ব্যবধান নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্র (lpg booking rule india)। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জানান, গ্রামাঞ্চল ও অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকায় দু’টি এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যে অন্তত ৪৫ দিনের ব্যবধান (lpg booking gap 45 days) রাখা হয়েছে। যদিও শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা এখনও ২৫ দিনই রয়েছে।
মূলত, রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ঠেকাতেই বুকিংয়ের নিয়মে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিন পর দ্বিতীয়টি বুক করা যাবে। পরে সেই ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ২৫ দিনের নিয়মটি মূলত শহরাঞ্চলের জন্য। গ্রামে একটি সিলিন্ডার বুক করার অন্তত ৪৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডারের বুকিং করা যাবে।
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুরী জানান, দেশে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনের কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত এলপিজিও মজুত রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালী-র মাধ্যমে, যা ইরান সংলগ্ন সমুদ্রপথ। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ওই রুটে পরিবহণে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে তাতে দেশে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। গত ৮ মার্চ কেন্দ্রের নির্দেশিকার পর উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
এদিকে চলতি মাস থেকেই রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। কলকাতা-য় ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। দেশের নানা প্রান্তে গ্যাস বুকিং নিয়ে সমস্যার অভিযোগও উঠছে—কোথাও বুকিং করা যাচ্ছে না, আবার কোথাও বুকিং করেও সময়মতো সিলিন্ডার মিলছে না। গ্যাসের জোগান কমে যাওয়ায় হোটেল ও রেস্তরাঁতেও চাপ পড়েছে বলে খবর।
তবে কেন্দ্রের দাবি, বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকদের হাতে সিলিন্ডার পৌঁছে যাচ্ছে এবং সেই সময়সীমায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। একই সঙ্গে কালোবাজারি রুখতে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন পুরী।
পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে নজিরবিহীন জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়েছে। তবুও ভারত সেই প্রভাব তুলনামূলক কম অনুভব করেছে। কারণ হরমুজ প্রণালী ছাড়াও অন্য পথেও জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। মন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে ভারত এবং সিএনজি ও এলএনজির সরবরাহেও কোনও ঘাটতি নেই।