শুক্রবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতেই এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 March 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই কালোবাজারি ও অবৈধ মজুত রুখতে কড়া পদক্ষেপ করল ছত্তিসগড় প্রশাসন (Chhattisgarh LPG black marketing)। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মোট ৭৪১টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (LPG cylinders seized Chhattisgarh)।
এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যের ১০২টি জায়গা থেকে এই সিলিন্ডারগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। খাদ্য দফতর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল সন্দেহভাজন বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে এই অভিযান (LPG inspection raids) চালায়।
শুক্রবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতেই এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বাজেয়াপ্ত রায়পুরে
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্যের রাজধানী রায়পুর জেলায় সবচেয়ে বেশি সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। সেখানে ৩৯২টি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে বিলাসপুর, যেখানে ১৩০টি সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে।
রাজ্যে পাঁচটি বটলিং প্ল্যান্ট চালু
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ছত্তিসগড়ে মোট পাঁচটি এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি করে পরিচালনা করে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।
আর একটি প্ল্যান্ট পরিচালনা করে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।
এই প্ল্যান্টগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ গৃহস্থালির এলপিজি মজুত রয়েছে এবং পূর্ণ ক্ষমতায় সিলিন্ডার ভরার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
রাজ্যের জেলাগুলিতে নিয়মিত সরবরাহ
সরকারি বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ভরা সিলিন্ডারগুলি নিয়মিতভাবে রাজ্যের সমস্ত জেলায় থাকা মোট ৫৪০ জন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাজ্যে পেট্রল ও ডিজেলেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এই জ্বালানি ২,৪৬৫টি পেট্রল পাম্পের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক
এই পরিস্থিতিতে ১২ মার্চ রাজ্যের মুখ্যসচিব বিকাশ শীল একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য দফতরের সচিব এবং বিভিন্ন তেল সংস্থার আধিকারিকরাও।
এর পরেই ১৩ মার্চ খাদ্য দফতরের পরিচালকের নেতৃত্বে একটি রাজ্যস্তরের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কমিটি গঠন করা হয়।
কেন্দ্রের আশ্বাস
১৩ মার্চ একটি ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক দফতরের সচিব রাজ্যগুলির খাদ্য সচিবদের জানিয়েছেন যে দেশে গৃহস্থালির এলপিজি এবং পেট্রল-ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
একই সঙ্গে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও যেন এই জ্বালানি পণ্যগুলির অবৈধ মজুত বা কালোবাজারি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।