ইরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ করায় তেল ও এলপিজি বোঝাই জাহাজ দেশে ঢুকতে পারছে না, ফলে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হচ্ছে ভারতে (India)। যদিও কেন্দ্র ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, '৫ মার্চের পর থেকে দেশে এলপিজি উৎপাদন (LPG Production) ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।' অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রও।

দেশে বাড়ল এলপিজি উৎপাদন
শেষ আপডেট: 14 March 2026 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার সংঘাত (Middle East tension) যত বাড়ছে ততই প্রভাব পড়ছে বিশ্বের অন্য দেশগুলির। ইরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ করায় তেল ও এলপিজি বোঝাই জাহাজ দেশে ঢুকতে পারছে না, ফলে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র হচ্ছে ভারতে (India)। যদিও কেন্দ্র ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, '৫ মার্চের পর থেকে দেশে এলপিজি উৎপাদন (LPG Production) ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।' অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রও।
কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রক (Union Petroleum Ministry) জানিয়েছে, দেশজুড়ে গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সরবরাহ (LPG Distribution) স্বাভাবিক রয়েছে। মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা (Sujata Sharma) জানান, রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে যাতে বাজারে গ্যাসের ঘাটতি না হয়। অতিরিক্ত উৎপাদনের বেশিরভাগই গৃহস্থালির চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে বেঙ্গালুরু (Bengaluru), মুম্বই (Mumbai) এবং পুণে-সহ (Pune) বেশ কয়েকটি শহরে রেস্তরাঁ ও ছোট খাবারের দোকানগুলো জানিয়েছে, বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের অস্থায়ী ঘাটতির কারণে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার এলপিজি বুকিংয়ের (LPG Booking) ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardeep Singh Puri) সংসদে জানিয়েছেন, শহরাঞ্চলে গ্যাস বুকিংয়ের ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় এই ব্যবধান ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে যখন ইরান দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পার হওয়ার অনুমতি দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Masoud Pezeshkian) মধ্যে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, এলপিজি ঘাটতির অভিযোগ তুলে বিরোধী সাংসদেরা সংসদ চত্বরে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহকে চারটি অগ্রাধিকার বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। গৃহস্থালির পাইপ গ্যাস, পরিবহণে ব্যবহৃত সিএনজি, এলপিজি উৎপাদন ইউনিট এবং পাইপলাইন পরিষেবা—এই জরুরি ক্ষেত্রগুলোকে আগের ছয় মাসের গড় চাহিদার ১০০ শতাংশ গ্যাস দেওয়া হবে।
অন্য শিল্পক্ষেত্র যেমন উৎপাদন শিল্প ও চা শিল্পকে গড় চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস দেওয়া হবে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে, যদিও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।