স্থানীয় সূত্রে খবর, এলপিজি সরবরাহে সমস্যার জেরে কয়েক দিন ধরেই সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন ভূষণ। প্রায় দুই থেকে তিন দিন ধরে তিনি গ্যাস সিলিন্ডার জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

সিলিন্ডারের লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানি বাড়ছে মানুষের
শেষ আপডেট: 13 March 2026 22:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার আশায় ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন (LPG supply crisis)। কিন্তু সেই অপেক্ষাই শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল। পাঞ্জাবের বারনালা জেলায় এলপিজি সিলিন্ডার নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ৬৬ বছরের এক বৃদ্ধের (Punjab LPG cylinder queue death)।
জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম ভূষণ কুমার মিত্তল। তিনি সেহনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এলপিজি সরবরাহে সমস্যার জেরে কয়েক দিন ধরেই সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন ভূষণ। প্রায় দুই থেকে তিন দিন ধরে তিনি গ্যাস সিলিন্ডার জোগাড় করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি স্থানীয় গ্যাস এজেন্সির সামনে পৌঁছে লাইনে দাঁড়ান। সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি টোকেন নম্বর ২৫ পান। কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই লাইনের দৈর্ঘ্য দ্রুত বাড়তে থাকে। ঘটনার সময় সেখানে ১২৫ জনেরও বেশি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।
গ্যাস এজেন্সি খোলার আগেই অসুস্থ
খবর অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন ভূষণ কুমার মিত্তল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গ্যাস এজেন্সি খোলার ঠিক আগের মুহূর্তেই তিনি আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান।
ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছেন সেহনা থানার স্টেশন হাউস অফিসার। তাঁর বক্তব্য, ভূষণ লাইনে দাঁড়িয়েই হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। সেই সময় পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১৩০ জনে।
সিলিন্ডার পেতে অপেক্ষা ৪৫ দিন!
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারের রিফিল পেতে সময় লাগছে অনেক বেশি। আগে যেখানে প্রায় ২৫ দিনের মধ্যেই নতুন সিলিন্ডার পাওয়া যেত, এখন সেখানে অপেক্ষার সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ দিনে।
এমনকি যাঁরা গত ৪৫ দিনের মধ্যে সিলিন্ডার পেয়েছেন, তাঁদের অনেককেই এজেন্সি থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন লাইনে দাঁড়ানো মানুষজন।
এই পরিস্থিতিতেই গ্যাসের জন্য ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ।
পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ও মেয়ে
জানা গেছে, ভুষণ কুমার মিত্তলের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং এক বিবাহিত মেয়ে। স্ত্রীর সঙ্গে সেহনা গ্রামেই থাকতেন তিনি। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় দম্পতি একাই থাকতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতির দিকে নজর প্রশাসনের
এই ঘটনার পর জেলায় গ্যাস এজেন্সিগুলির পরিস্থিতির উপর নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। জানা গেছে, দীর্ঘ লাইন এবং ক্রমবর্ধমান ভিড় সামলাতে বারনালা জেলার বিভিন্ন গ্যাস এজেন্সির ওপর নজর রাখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।