আরবদুনিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সঙ্কট (Oil Crisis) তীব্র হচ্ছে। আঁচ পড়েছে ভারতেও। কলকাতা (Kolkata), মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লির মতো বড় বড় শহরে বহু রেস্তরাঁ, হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে। কোপ পড়েছে স্কুলের মিড ডে মিলেও (Mid Day Meal)।

নরেন্দ্র মোদী (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 13 March 2026 00:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এলপিজি (LPG) নিয়ে প্যানিক করার কোনও কারণ নেই, দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (India PM Narendra Modi)। যারা গুজব ছড়িয়ে ভয় দেখানো বা কালোবাজারির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি, নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যগুলিকে।
আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East tension) জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সঙ্কট (Oil Crisis) তীব্র হচ্ছে। আঁচ পড়েছে ভারতেও। কলকাতা (Kolkata), মুম্বই, বেঙ্গালুরু, দিল্লির মতো বড় বড় শহরে বহু রেস্তরাঁ, হোটেল বন্ধের মুখে। কোপ পড়েছে স্কুলের মিড ডে মিল (Mid Day Meal), মন্দিরের প্রসাদ-ভোগে। যুদ্ধ শেষ না হলে আগামী ক'দিনে পরিস্থিতি আরও কতটা খারাপের দিকে যাবে, তা ভেবেই আতঙ্কিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, দেশের কাছে যথেষ্ট জ্বালানি মজুত আছে (LPG availability India), তাই কেউ যেন অযথা উদ্বিগ্ন না হয়।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, "যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সঙ্কট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রভাব ফেলেছে, সেই প্রভাব পড়েছে ভারতেও। তবে আমরা সব স্তরে ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কোনও সমস্যা না হয়।” তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং জ্বালানি সরবরাহর জন্য কাজ চলছে।
কালোবাজারি (black marketing LPG) এবং গুজব ছড়ানো রোধ করতে রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে এবং যারা এই ভুল কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট, যুদ্ধের কারণে দেশের মানুষ যেন সমস্যায় না পড়েন। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। করোনার মতো এই সঙ্কটও আমরা সফলভাবে অতিক্রম করব।”"
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেক শক্তিশালী হয়েছে। ২০১৪ সালের আগে দেশে প্রায় কোনও স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ছিল না, কিন্তু আজ দেশের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ক্ষমতা ৫০ লাখ টনেরও বেশি। আগামিদিনে তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে একথাও দেশবাসীর উদ্দেশে জানান মোদী।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, "ভারতের রিফাইনিং ক্ষমতা গত দশকে ৪০ মিলিয়ন টন বার্ষিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতকে বিশ্বের প্রধান রিফাইনিং কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে। জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা বাড়াতে সরকার ইথানল ব্লেন্ডিং ও বায়োফুয়েল প্রচার করছে। ২০১৪ সালের আগে পেট্রোলের ইথানল ব্লেন্ডিং মাত্র ১-১.৫ শতাংশ ছিল, যা এখন প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে।"
এই উদ্যোগের ফলে গত ১১ বছরে প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেল অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল আমদানি এড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল তেল আমদানি কমানো হচ্ছে, যা সরকারের প্রায় ১.৫ লাখ কোটি সাশ্রয় করেছে।
এদিনই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি (Middle East Tension) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Iranian President, Dr. Masoud Pezeshkian) সঙ্গে এক বিশেষ টেলিফোনিক কথোপকথনে আঞ্চলিক সুরক্ষা ও শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন মোদী।
Had a conversation with Iranian President, Dr. Masoud Pezeshkian, to discuss the serious situation in the region.
Expressed deep concern over the escalation of tensions and the loss of civilian lives as well as damage to civilian infrastructure.
The safety and security of…— Narendra Modi (@narendramodi) March 12, 2026
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেভাবে অঞ্চলে উত্তেজনা (Middle East Tension) বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বসতি এলাকা এবং সাধারণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভারত (India) তার গভীর দুশ্চিন্তার কথা ইরানকে জানিয়েছে।
এই ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদী (PM Modi) দুটি বিশেষ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। এক, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এবং দুই, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বজায় রাখতে পণ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের পথ বা ট্রানজিট রুটকে বাধামুক্ত রাখা।