Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

LPG crisis: কয়লার আঁচ ফেরাতে চাইছে কেন্দ্র, এক দশকের বেশি সময় পর কেরোসিনের বরাদ্দেও দরাজ সরকার

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১২ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার ধাপে ধাপে কেরোসিনের বদলে এলপিজি ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছিল।  কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় আপাতত সেই নীতিতে সাময়িক পরিবর্তন আনতে হচ্ছে সরকারকে।

LPG crisis: কয়লার আঁচ ফেরাতে চাইছে কেন্দ্র, এক দশকের বেশি সময় পর কেরোসিনের বরাদ্দেও দরাজ সরকার

হোটেলে, বাড়িতে ফিরতে চলেছে পুরনো দিনের আঁচের উনুন

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 13 March 2026 13:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহে টানাপড়েন চলছে। তারই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাস (LPG shortage India) সরবরাহে ঘাটতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে ঘরে রান্নার জন্য কেরোসিন (Kerosene cooking) এবং হোটেল-রেস্তরাঁয় কয়লা ব্যবহারের (Coal cooking policy India) অনুমতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ দেশে এলপিজি রিফিলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং আতঙ্কে অনেক জায়গায় বেশি করে গ্যাস বুকিং করা শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১২ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার ধাপে ধাপে কেরোসিনের বদলে এলপিজি ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (Ujjwala scheme) মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে কাঠ-কয়লার বদলে গ্যাস ব্যবহারের প্রচারও শুরু হয়েছিল।

কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় আপাতত সেই নীতিতে সাময়িক পরিবর্তন আনতে হচ্ছে সরকারকে।

সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত ৪৮ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করেছে। এর আগে রাজ্যগুলিকে নিয়মিতভাবে প্রায় ১ লক্ষ কিলোলিটার কেরোসিন দেওয়া হত। এখন তার সঙ্গে অতিরিক্ত বরাদ্দ যোগ করা হয়েছে, যাতে গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্থাগুলিকে এক মাসের জন্য অনুমতি দিতে বলা হয়েছে, যাতে হোটেল-রেস্তরাঁ এবং আতিথ্য শিল্পে বায়োমাস, আরডিএফ পেলেট ও কয়লা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এখানে RDF পেলেট বলতে বোঝানো হচ্ছে Refuse-Derived Fuel, যা প্রক্রিয়াজাত পৌর বর্জ্য, শিল্প বর্জ্য বা কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয় এবং কয়লার তুলনায় কম দূষণকারী বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ, বড় ধাক্কা ভারতের জ্বালানি সরবরাহে

ইরান-ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এখান দিয়ে ভারত পেত—

  • মোট অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকেরও বেশি (৫.৮ মিলিয়ন ব্যারেলের বড় অংশ)
  • রান্নার গ্যাস LPG-র ৫৫%
  • তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-এর ৩০%

কিন্তু চলতি যুদ্ধের কারণে এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তেল সংস্থাগুলি এখন গৃহস্থালির রান্নার জন্য এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, আর হোটেল-রেস্তরাঁর মতো বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে।

তবে কিছু পদক্ষেপে দেশীয় এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৮% বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। এর ফলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাণিজ্যিক এলপিজির মোট চাহিদার প্রায় ২০% পর্যন্ত সরবরাহ আবার চালু করা হবে।

তেল মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, এই সুবিধা পেতে কারা যোগ্য হবেন, তা রাজ্য সরকারগুলিকেই নির্ধারণ করতে হবে।

গ্রামাঞ্চলে এলপিজি রিফিলের ব্যবধান বাড়িয়ে ৪৫ দিন

গ্যাসের আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিং বাড়তে থাকায় সরকার নতুন নিয়ম চালু করেছে। গ্রামীণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এখন এলপিজি রিফিল বুকিংয়ের ব্যবধান ৪৫ দিন করা হয়েছে।

এর আগে এই সময়সীমা ছিল ২১ দিন (পুরনো নিয়ম)। পরে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছিল, এখন গ্রামাঞ্চলে তা বাড়িয়ে ৪৫ দিন। সরকারের দাবি, এর ফলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ন্যায্যভাবে গ্যাস বিতরণ করা সম্ভব হবে।

এক দশকের বেশি সময় পর বাড়ল কেরোসিন বরাদ্দ

কেরোসিন বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকার ধাপে ধাপে এই জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছিল। ২০১৪ সালের ১৭ জুন দিল্লিকে ভারতের প্রথম ‘কেরোসিন-মুক্ত’ শহর ঘোষণা করা হয়। তার আগে ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল কেরোসিনের বদলে এলপিজি ব্যবহারের উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার লক্ষ্য ছিল গ্রামাঞ্চলে কাঠ, কয়লা বা গোবরের জ্বালানি ব্যবহার কমানো। কিন্তু বর্তমান সঙ্কটে আবার সাময়িকভাবে পুরনো জ্বালানির দিকেই ফিরতে হচ্ছে।

লোকসভায় কেন্দ্রীয় তেলমন্ত্রীর বক্তব্য

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, টানা ১৩ দিন ধরে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত।

তিনি বলেন, “নথিভুক্ত ইতিহাসে প্রথমবার কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংঘাতে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, কিন্তু অন্য অনেক দেশের মতো আমরাও এর প্রভাব সামলাচ্ছি।”

তবে তাঁর দাবি, ভারতের অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সুরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে ভারত ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করে, যেখানে ২০০৬-০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৭।

তিনি বলেন “ভারতের শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশেরও বেশি ক্ষমতায় উৎপাদন হচ্ছে।”

মন্ত্রী আরও জানান,

  • দেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, ATF বা ফুয়েল অয়েলের কোনও ঘাটতি নেই
  • খুচরো পাম্পগুলিতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে
  • সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রয়েছে
  • আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিং, প্রকৃত ঘাটতি নয়

হরদীপ সিং পুরির বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের প্রকৃত ঘাটতি তেমন নেই। বরং আতঙ্কের কারণে অনেক জায়গায় অতিরিক্ত বুকিং ও মজুত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “কিছু এলাকায় হুড়োহুড়ি করে বুকিং করা হচ্ছে। এটি সরবরাহ ব্যর্থতার জন্য নয়, বরং চাহিদার বিকৃতি।”

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার Delivery Authentication Code (DAC) ব্যবস্থাও বাড়াচ্ছে। বর্তমানে ৫০ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা চালু থাকলেও তা বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হবে। এই পদ্ধতিতে গ্রাহকের মোবাইলে পাঠানো একটি কোড দিয়ে ডেলিভারি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ সম্পূর্ণ হিসেবে গণ্য হবে না।

গৃহস্থালির গ্যাসই এখন অগ্রাধিকার

বর্তমানে সরকার গৃহস্থালির রান্না এবং পরিবহণ জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রায় ৩৩ কোটি পরিবার LPG ব্যবহার করে, যা মোট LPG ব্যবহারের প্রায় ৮৬ শতাংশ।

এই কারণে—

  • শিল্পে LNG সরবরাহ কমানো হয়েছে
  • শোধনাগারগুলিকে LPG উৎপাদন বাড়াতে বলা হয়েছে
  • কিছু কারখানাকে LPG-কে পেট্রোকেমিক্যাল ফিডস্টক হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে
  • চাহিদা নিয়ন্ত্রণে ১১ মাস পর LPG-র দামও বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক এলপিজি-তে নিয়ন্ত্রণ কেন

মন্ত্রী জানান, বাণিজ্যিক এলপিজি বাজার সম্পূর্ণ ডিরেগুলেটেড, অর্থাৎ সাধারণ সময়ে কোনও বুকিং বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই যে কেউ যে কোনও পরিমাণ সিলিন্ডার কিনতে পারেন।

কিন্তু সঙ্কটের সময়ে এই ব্যবস্থাই মজুত ও কালোবাজারির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই আপাতত সরকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার ইতিমধ্যে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, যারা বিভিন্ন অঞ্চল ও শিল্পক্ষেত্র অনুযায়ী প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করবে।


```