ডেলিভারি কর্মীদের দাবি, আগে যেখানে একজন কর্মী দিনে গড়ে প্রায় ৩০টি ডেলিভারি করতেন, সেখানে এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫টির কাছাকাছি। ফলে তাঁদের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

প্রায় এক কোটি কর্মীর ওপর প্রভাব পড়েছে সঙ্কটের
শেষ আপডেট: 12 March 2026 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া এলপিজি সঙ্কটে (Middle East war LPG supply) প্রথমে বিশেষ কিছু পদ মেন্যু থেকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল হোটেল-রেস্তরাঁগুলি। সেটা ছিল শুরু। এবার তার প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের ফুড ডেলিভারি পরিষেবাতেও (LPG crisis impact on food delivery)।
দেশ জুড়ে বহু রেস্তরাঁ, ধাবা ও ক্লাউড কিচেন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় খাদ্য ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে (food delivery orders drop) বলে জানিয়েছেন ডেলিভারি কর্মীরা। এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁদের দৈনন্দিন আয় ও জীবিকা (gig workers India crisis)।
ডেলিভারি কর্মীদের সংগঠন গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কারস ইউনিয়ন (GIPSWU) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সঙ্কটের জেরে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সংগঠনের দাবি, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্য ব্যবসায়।
সংগঠনের দাবি, এই সঙ্কটের ফলে জোম্যাটো ও স্যুইগি-র মতো প্ল্যাটফর্মে খাবারের অর্ডার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বহু রেস্তরাঁ, ধাবা, ক্লাউড কিচেন, ক্যাটারিং পরিষেবা এবং রাস্তার খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডেলিভারি পরিষেবাও কার্যত ধাক্কা খেয়েছে।
দিনে ৩০ অর্ডার থেকে নেমে ৫
ডেলিভারি কর্মীদের দাবি, আগে যেখানে একজন কর্মী দিনে গড়ে প্রায় ৩০টি ডেলিভারি করতেন, সেখানে এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫টির কাছাকাছি। ফলে তাঁদের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
GIPSWU-র বক্তব্য, “আমাদের সদস্যরা কার্যত অনাহারের মুখে পড়ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বিপর্যয়ে পরিণত হচ্ছে।” সংগঠন জানিয়েছে, বহু ডেলিভারি কর্মী তাঁদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। অনেক পরিবারে খাবার জোটাতে সমস্যা হচ্ছে। এমনকি শিশুদেরও না খেয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সংগঠনের দাবি, দিল্লির এক ডেলিভারি কর্মী, যিনি দুই সন্তানের বাবা, জানিয়েছেন, আগে দিনে প্রায় ৩০টি ডেলিভারি করলেও এখন তা কমে ৫-১০-এ নেমে এসেছে। এর মধ্যেই আবার প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ তাঁর আইডি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুধু ডেলিভারি কর্মীরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রাইড-হেলিং ড্রাইভার, ক্লাউড কিচেনের কর্মী এবং খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীদের ছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।
প্রায় এক কোটি কর্মীর ওপর প্রভাব
গিগ কর্মীদের সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধঘটিত সঙ্কটে দেশে প্রায় এক কোটি শ্রমিক কোনও না কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মী।
সংগঠনের দাবি, যে পরিস্থিতির জন্য কর্মীরা দায়ী নন, সেই পরিস্থিতির সমস্ত চাপ তাঁদের ওপর এসে পড়ছে। তাই ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলিকে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সরকারের কাছে একাধিক দাবি
এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে,
রেস্তরাঁ ও ক্লাউড কিচেনে ধস
দেশের বিভিন্ন শহরে ইতিমধ্যেই বহু রেস্তরাঁ ও ক্লাউড কিচেন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, নয়তো মেনু কমিয়ে দিয়েছে। রান্নার গ্যাসের ঘাটতির কারণে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এই সঙ্কট শুধু শহরেই নয়, গ্রামীণ এলাকাতেও প্রভাব ফেলছে। অনেক জায়গায় গ্যাস এজেন্সি ডেলিভারি বন্ধ করে দিয়েছে বা সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবধান রাখছে।
সরকারের পদক্ষেপ
এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসকে কেন্দ্র করে সরকার এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৫ প্রয়োগ করেছে। এর ফলে উৎপাদন, সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সরকারের হাতে রয়েছে।
তবে কেন্দ্রের দাবি, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকারের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে এবং দেশে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।