নতুন রান্নার গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় সমস্যায় হোটেল ও রেস্তোঁরা শিল্প। অন্তত আংশিকভাবে পরিষেবা চালুর আর্জি জানাল ব্যবসায়ী সংগঠন।

পূর্বাঞ্চলের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুদেশ পোদ্দার।
শেষ আপডেট: 10 March 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশয় থাকলেও দু'দিন আগেও পরিস্থিতি খারাপ ছিল না। কিন্তু তা এবারে দানা বাঁধছে। পুরো বন্ধ না করে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় রান্নার গ্যাসের (এলপিজি ) বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান অন্তত আংশিক চালু রাখার জন্য কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানাল পূর্বাঞ্চলের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির সংগঠন (Hotel and Restaurants Association of Eastern India, HRAEI)। সে ক্ষেত্রে বাকি জ্বালানীর প্রয়োজন মেটাতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম (induction oven) ব্যবহারের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথাও বলছে তারা।
ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের জেরে তেল ও গ্যাসের মতো অত্যাবশ্যক জ্বালানির জোগানে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাজারে। দেশে হেঁশেলে রান্নার গ্যাসের জোগান বজায় রাখতে কেন্দ্র অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন চালু করে জানিয়েছে, তেল শোধনাগার ও সংস্থাগুলিকে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার জোগানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আপাতত বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার জোগানে দিতে হবে স্কুল, হাসপাতালের মতো জরুরি ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলি কিংবা শিল্প সংস্থার বরাদ্দ আপাতত অগ্রাধিকার নয়।
এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো কলকাতা-সহ এ রাজ্যের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় জ্বালানির জোগান অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।
এইচআরএইআইএর প্রেসিডেন্ট সুদেশ পোদ্দার মঙ্গলবার বলেন, 'গতকাল পর্যন্তও (সোমবার) আমাদের গ্যাসের জোগান ঠিক ছিল। জোগানের ভারসাম্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য আমরা আমাদের সদস্যদের অযথা বাড়তি বুকিং করতে বারণ করেছিলাম। কিন্তু আজ থেকে নতুন করে গ্যাসের জোগান নেই। যার কাছে আগে কেনা যা সিলিন্ডার রয়েছে, তার উপরই ভরসা।'
পরিস্থিতি যা, তাতে বাড়ি, স্কুল, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা মানলেও, তাঁদের বক্তব্য, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় বহু মানুষ যুক্ত, অনেক কর্মসংস্থানের সূত্র এটি। তাই একেবারে সবটা বন্ধ হলে তাঁরাও সমস্যায় পড়বেন। তাই হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির প্রয়োজনের পুরোটা বরাদ্দ না করলেও অন্তত আংশিক বরাদ্দ করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন।
এদিকে তেল সংস্থা সূত্রের খবর, ঘরের রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় কতটা এলপিজি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার তৈরি হবে আর কতটা দিয়ে ১৯ কেজির বা তার চেয়েও বেশি বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার, তা ঠিক হয় শোধনাগারগুলিতে। কারণ সেই অনুযায়ী আলাদা আলাদা জিএসটি চাপে। তাই শোধনাগার থেকে একবার সেই এলপিজি বেরিয়ে গেলে তেল সংস্থার বটলিং প্ল্যান্টে তা আর অদল বদল করা যায় না। অর্থাৎ, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে ১৯ কেজির সিলিন্ডার ভরা যাবে না। ফলে কোন গ্যাস কতটা তৈরি করা হবে, তা সরকারি স্তরে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো শোধনাগারগুলিতে নির্দেশ দিতে হবে।