বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের টান পড়তেই বিপাকে কলকাতার রেস্তরাঁ ও ক্যাফেগুলি। অনেক জায়গায় ঝাঁপ পড়ছে, বাড়তে পারে খাবারের দামও।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 March 2026 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাণিজ্যিক এলপিজি (Commercial LPG) সরবরাহে টান পড়তেই চাপে কলকাতার (Kolkata) রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা। গ্যাসের অভাবে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কলকাতায় একটি জনপ্রিয় রেস্তরাঁ ও একটি ক্যাফে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে শহরের এক ফুড চেইন মালিক। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়েছে যে, শহরের বহু রেস্তরাঁ মালিক কার্যত টিকে থাকার চেষ্টাটুকু করছেন।
এলপিজি ডিলাররা (LPG Dealers) জানিয়ে দিয়েছেন, বুধবার থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা সম্ভব নয়। ফলে অধিকাংশ রেস্তরাঁই মেনু কমিয়ে দেওয়া, সময় সীমিত করা বা বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে। কারও কারও সামনে বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
তেল বিপণন সংস্থার (Oil Marketing Companies বা OMCs) শীর্ষ সূত্রের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রের (Non-Regulated Sector) জন্য বাণিজ্যিক এলপিজি উৎপাদন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ডিলারদের কাছে যে সামান্য মজুত রয়েছে, সেটুকুই রেস্তরাঁ ও হোটেলগুলিকে দেওয়া যেতে পারে। তবে তাদের বক্তব্য, ১৯.৫ কেজির (19.5 kg Cylinder) বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মজুত তাঁদের কাছে মাত্র এক দিনের মতো রয়েছে। এর বেশি নয়।
শহরের নামী রেস্তরাঁ পিটার ক্যাট (Peter Cat), মোকাম্বো (Mocambo), বার বি কিউ (Bar B Q) এবং আরসালান (Arsalan)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলির মাসে প্রায় ২৫০টি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। এমনকি ছোট রেস্তরাঁও মাসে অন্তত ৩০টি সিলিন্ডার ব্যবহার করে।
এই পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (National Restaurant Association of India বা NRAI) এবং হোটেল অ্যান্ড রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (Hotel and Restaurant Association of Eastern India বা HRAEI) কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে (Hardeep Singh Puri) চিঠি লিখে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে।
এই ব্যবসার প্রতিনিধিদের মতে, বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে হসপিটালিটি সেক্টর (Hospitality Industry) কার্যত ভেঙে পড়বে। এই খাতের দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রায় পুরোপুরি বাণিজ্যিক এলপিজির উপরই নির্ভরশীল। বহু প্রতিষ্ঠান বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে। খাদ্য সংস্থা মডার্ন ফুডস (Modern Foods) এবং মিও আমোরে (Mio Amore) ডিজেলচালিত ওভেন (Diesel Oven) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর জন্য খাবারের দাম সাময়িকভাবে বাড়ানো হবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হয়নি।
এদিকে জনপ্রিয় মোমো চেন ওয়াও! মোমো (Wow! Momo) দিল্লির (Delhi) এলএনজি (LNG)-চালিত ইউনিটে উৎপাদন সরানোর পরিকল্পনা করছে। আর আরসালান প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার প্লেট বিরিয়ানি তৈরি করে তাদের ১২টি আউটলেট থেকে। সংস্থার কর্ণধার সইয়দ মোজাম্মল হক (Syed Mozammal Haque) জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৬০–৭০টি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার প্রয়োজন হয় তাঁদের। এখন ব্যারাকপুর (Barrackpore), সোদপুর (Sodepur) বা বারাসত (Barasat)-এ রান্না করে কলকাতায় খাবার পাঠানোর পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে।
অনেক রেস্তরাঁ আপাতত বৈদ্যুতিক কুকার (Electric Cooker) ব্যবহার করে সীমিত রান্না চালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু রেস্তরাঁ মালিকদের মতে, বড় পরিসরে রান্না সম্পূর্ণ ভাবে বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে করা কার্যত অসম্ভব। ফলে দ্রুত সমাধান না হলে কলকাতার রেস্তরাঁ শিল্প বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।