যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সঙ্কট! এবার দাম বাড়ল অটোর গ্যাসের। বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। এদিকে ভোররাত থেকেই কেমিক্যাল পাম্পে লম্বা লাইন অটো চালকদের।

অটো গ্যাসের দাম বাড়ল
শেষ আপডেট: 11 March 2026 10:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সঙ্কট! এবার দাম বাড়ল অটোর গ্যাসের (Auto Gas Price Hike)। বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। এদিকে ভোররাত থেকেই কেমিক্যাল পাম্পে লম্বা লাইন অটো চালকদের (Auto Driver)। গ্যাসের দাম বাড়ায় (LPG Price Hike) ভাড়াও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা, ফলে পকেটে টান পড়বে যাত্রীদেরও।
বুধবার সকালেই ৫ টাকা বেড়ে গ্যাসের দাম হয়েছে ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। চালকদের অভিযোগ, আগে থেকে কিছুই জানা ছিল না। রাতেও দাম ছিল ৫৭ টাকা ৬৮ পয়সা।
অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর দাম বাড়ার খবর শুনে আরও বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, এত দ্রুত দাম বাড়ল কীভাবে? পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, কিছুক্ষণ আগেও পুরনো দরেই গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই নতুন নির্দেশিকা (সার্কুলার) আসায় সঙ্গে সঙ্গেই দাম বাড়াতে হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের অনুমান, গ্যাসের দাম বাড়ায় বিভিন্ন রুটে ভাড়া (Auto fare increase) ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সংগঠনগুলির উপর।
আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East) আগুনের আঁচ এসে পড়ছে ভারতেও (India)। জ্বালানি সঙ্কটের মুখে সমগ্র দেশ। ইতিমধ্যেই এলপিজি গ্যাসের (LPG Gas Crisis) হাহাকার দেখা গেছে, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় বড় শহরগুলির রেস্তরাঁ-হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। গৃহস্থের সিলিন্ডার বুকিংয়েও এসেছে নানা জটিলতা।
কলকাতাতেও (Kolkata LPG Crisis) এর রেশ অনেকটাই। রাতারাতি বেড়েছে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং,একইসঙ্গে বাড়ছে কালোবাজারিও। তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) বুকিং ৫ মার্চ নাগাদ ২.৫ লক্ষ থেকে ৯ মারচে ৫.৮ লক্ষে পৌঁছেছে। সব তেল–বিপণন সংস্থা মিলিয়ে বুকিং ৩.৯ লক্ষ থেকে বেড়ে ৭.৫ লক্ষেরও বেশি হয়েছে একই সময়ে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্কট তীব্র হলে বহু খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। National Restaurant Association of India (NRAI) জানিয়েছে, কলকাতায় প্রায় ৫ হাজার রেস্তরাঁ আছে এবং এদের বিশাল অংশ রান্নার জন্য পুরোপুরি LPG–র উপর নির্ভরশীল।
NRAI–এর কলকাতা বিভাগের প্রধান পিয়ূষ কঙ্করিয়া বলেছেন, অনেক রেস্তরাঁয় এখনই রান্নার গ্যাস শেষ হওয়ার পথে। এরমধ্যে ৪০ শতাংশ রেস্তরাঁ দ্রুত বিপর্যয়ে পড়বে। আরও ৩০–৪০ শতাংশ মাত্র কয়েক দিনের মতো গ্যাস মজুত রেখে চালাতে পারবে।
এদিকে, রান্নার গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় হয় অত্যাবশ্যক পণ্য বিক্রি আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের ওই আইনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে মজুত, বিক্রি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, উৎপাদন ও জোগানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সমতাভিত্তিক বিপণন।