আরাবল্লিকে ঘিরে বিতর্কিত ‘১০০ মিটার’ সংজ্ঞা প্রসঙ্গে যাদব ব্যাখ্যা করেন, এটি কোনও এলাকা বাদ দেওয়ার কৌশল নয়। পাহাড়ের চূড়া থেকে পাদদেশ পর্যন্ত উচ্চতার মাপ হিসেবেই এই মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, এনসিআর এলাকায় কোনও ধরনের খননের অনুমতি নেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 December 2025 22:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরাবল্লি পর্বতমালাকে (Aravalli Range) ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সাম্প্রতিক রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Central Minister Bhupendra Yadav)। সোমবার তিনি জানান, রায় খুঁটিয়ে দেখে স্পষ্ট হয়েছে - দেশের প্রাচীনতম এই পর্বতমালার সংরক্ষণ নিয়েই আদালত জোর দিয়েছে, কোনওভাবেই তার ক্ষয় বা খননের পক্ষে সওয়াল করা হয়নি।
ভূপেন্দ্র যাদবের কথায়, সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দিল্লি, রাজস্থান ও গুজরাটে বিস্তৃত আরাবল্লি পর্বতমালাকে (Aravalli Range) বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার বরাবরই ‘সবুজ আরাবল্লি’-র পক্ষে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, এই প্রথম সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত উদ্যোগকে এভাবে বিচারবিভাগের স্বীকৃতি মিলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত যে টেকনিক্যাল কমিটি (Technical Committee) গঠন করেছে, তার দায়িত্ব সীমিত - মূলত খনন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয় খতিয়ে দেখাই তাদের কাজ।
আরাবল্লিকে ঘিরে বিতর্কিত ‘১০০ মিটার’ (100 Meters) সংজ্ঞা প্রসঙ্গে যাদব ব্যাখ্যা করেন, এটি কোনও এলাকা বাদ দেওয়ার কৌশল নয়। পাহাড়ের চূড়া থেকে পাদদেশ পর্যন্ত উচ্চতার মাপ হিসেবেই এই মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, এনসিআর এলাকায় কোনও ধরনের খননের অনুমতি নেই।
রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশের উল্লেখ করে ভূপেন্দ্র যাদব জানান, প্যারাগ্রাফ ৩৮-এ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন কোনও খনন লিজ দেওয়া যাবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, আরাবল্লি অঞ্চলে রয়েছে ২০টি অভয়ারণ্য ও চারটি টাইগার রিজার্ভ, যা এই পর্বতমালার পরিবেশগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
মন্ত্রী দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে আরাবল্লি সংক্রান্ত সমস্ত ভুল অভিযোগ ও বিভ্রান্তি কার্যত খারিজ হয়ে গেছে। পাশাপাশি আদালত যে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সুপারিশ করেছে, তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সমীক্ষা ও সংরক্ষণমূলক উদ্যোগেরই অনুমোদন মিলেছে।
যদিও অন্যদিকে, ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (FSI) তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আরাবল্লিতে প্রায় ১০ হাজার খনন কার্যকলাপ এই পর্বতমালাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটি (CEC) এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইলেও, কেন্দ্রের যুক্তি - রাজস্থানে রিচার্ড বারফি গাইডলাইন অনুযায়ী ১০০ মিটারের বেশি উচ্চতার গঠনগুলিকেই আরাবল্লির অংশ হিসেবে ধরা হয়।
সব মিলিয়ে, আরাবল্লি সংরক্ষণ বনাম খনন বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যার লড়াই এখনও জারি।