দু’দেশের নাগরিকদের যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আপাতত থমকে গেল। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 December 2025 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে (India Bangladesh Relation) নতুন করে চিড়। যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির (Osman Hadi) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আবহে দিল্লিতে ভিসা ও কনস্যুলার পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ হাই কমিশন (Bangladesh High Commission)। সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই পরিষেবা স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক মহলে স্পষ্টভাবেই ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, একদিন আগেই অর্থাৎ রবিবার বাংলাদেশের চট্টগ্রামে (Chittagong) অবস্থিত ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (IVAC) অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা করে ভারত। যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সেখানে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সব ধরনের কনস্যুলার ও ভিসা পরিষেবা (Visa Work) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।’’ পরিষেবা বন্ধ থাকায় যাঁরা সমস্যায় পড়ছেন, তাঁদের কাছে দুঃখপ্রকাশও করেছে হাই কমিশন।
এই ঘটনার ফলে দু’দেশের নাগরিকদের যাতায়াত, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আপাতত থমকে গেল। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব যে সীমান্ত পেরিয়ে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই - এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন কত দ্রুত স্বাভাবিক পথে ফিরবে, নাকি সম্পর্ক আরও ভঙ্গুর হয়ে উঠবে।
সম্প্রতি দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে মিথ্যে প্রচার করছে বলেও দাবি করে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানান, ২০ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) সামনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবক জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবিতেই এই বিক্ষোভ হয় বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কোনও সময়েই হাইকমিশনের বেড়া ভাঙার চেষ্টা হয়নি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।” বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের একটি অংশে প্রকাশিত খবরকে ‘ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন তিনি।