অভিসার শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন যেখানে অসম সরকার ও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করা হয়।

সাংবাদিক অভিসার শর্মা
শেষ আপডেট: 28 August 2025 14:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বৃহস্পতিবার সাংবাদিক (Jounalist) ও ইউটিউবার অভিসার শর্মাকে (Abhisar Sharma) চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছে। গুয়াহাটি পুলিশের দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় (Sedition Case) এই সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এফআইআর (FIR) খারিজের আবেদন তাঁকে প্রথমে গুয়াহাটি হাইকোর্টেই জানাতে হবে।
অভিসার শর্মা দাবি করেছিলেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)–এর ১৫২ ধারা অসাংবিধানিক। এই ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করে এমন কোনও কাজ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে এবং আগেই জমা পড়া একাধিক অনুরূপ মামলার সঙ্গে একত্রিত করেছে।
তবে এফআইআর বাতিলের আবেদন সরাসরি শীর্ষ আদালতে শুনতে রাজি হয়নি বেঞ্চ। বিচারপতিদের মন্তব্য, “আপনি কেন হাইকোর্টকে এড়িয়ে যাচ্ছেন? আমরা অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিচ্ছি, কিন্তু এফআইআর বাতিলের জন্য আপনাকে প্রথমে গুয়াহাটি হাইকোর্টেই যেতে হবে। শুধু সাংবাদিক বলেই সরাসরি এখানে আসবেন, তা হতে পারে না।”
অভিসারের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে বলেন, “সমাজ এই আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকে। দয়া করে এইভাবে ফিরিয়ে দেবেন না। এতে ভুল বার্তা যাবে।” কিন্তু আদালত জানায়, আপাতত চার সপ্তাহের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেই সময়ের মধ্যে আবেদনকারী হাইকোর্টে যেতে পারবেন।
অভিসার শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন যেখানে অসম সরকার ও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করা হয়। এফআইআরে বলা হয়েছে, তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযুক্ত করেছেন এবং ‘রামরাজ্য’র ধারণাকে বিদ্রূপ করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, এই মন্তব্যগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচিত সরকারকে হেয় করা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানো এবং প্রশাসনের উপর মানুষের আস্থা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
এফআইআরে আরও উল্লেখ, ওই ভিডিও ঘিরে অভিযোগকারীর এলাকায় উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়েছিল, যা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারত। পুলিশ জানিয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করা হয়েছে কারণ ঘটনাটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি হুমকি, গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ উস্কে দেওয়া এবং জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত।