Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটল

প্রথা না কুসংস্কার, ঠিক করবে আদালতই, শবরীমালা মামলায় কেন্দ্রকে কড়া তোপ সুপ্রিম কোর্টের

শুনানির শুরুতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রশ্ন তোলেন, আদালত কীভাবে নির্ধারণ করবে কোনও প্রথা কুসংস্কার কি না। সেই প্রসঙ্গেই সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ।

প্রথা না কুসংস্কার, ঠিক করবে আদালতই, শবরীমালা মামলায় কেন্দ্রকে কড়া তোপ সুপ্রিম কোর্টের

শবরীমালা মামলা (ফাইল ছবি)

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 8 April 2026 16:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা (Sabarimala) মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। আদালত জানিয়ে দিল, কোনও ধর্মীয় প্রথা কুসংস্কার (superstitious practice) কি না, তা নির্ধারণ করার অধিকার ও এখতিয়ার (jurisdiction) তাদের রয়েছে।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)-এর নেতৃত্বে নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ (Constitution Bench) এই মামলার শুনানি করে। মূলত কেরলের (Kerala) শবরীমালা মন্দিরে (Sabarimala Temple) মহিলাদের প্রবেশাধিকার ও বিভিন্ন ধর্মস্থানে মহিলাদের প্রতি বৈষম্যের প্রশ্নে একাধিক আবেদন নিয়ে এই শুনানি চলছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার (religious freedom) পরিধি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রের (Centre) পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta) প্রশ্ন তোলেন, আদালত কীভাবে নির্ধারণ করবে কোনও প্রথা কুসংস্কার কি না। তাঁর যুক্তি, সংবিধানের (Constitution) ২৫(২)(বি) (Article 25(2)(b)) অনুযায়ী, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আইনসভার (legislature)। আইনসভাই প্রয়োজনে কোনও প্রথাকে কুসংস্কার ঘোষণা করে সংস্কারের আইন আনতে পারে।

মেহতার বক্তব্য, একটি ধর্মনিরপেক্ষ আদালত (secular court) ধর্মীয় প্রথাকে কুসংস্কার বলে চিহ্নিত করতে পারে না, কারণ বিচারপতিরা আইনের বিশেষজ্ঞ, ধর্মের নন। তাঁর কথায়, “যা নাগাল্যান্ডে (Nagaland) ধর্মীয় প্রথা, তা অন্য কারও কাছে কুসংস্কার হতে পারে। আমাদের সমাজ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।”

তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ আদালত। বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ (Justice Ahsanuddin Amanullah) স্পষ্ট বলেন, 'আদালতের অধিকার রয়েছে কোনও প্রথা কুসংস্কার কি না তা নির্ধারণ করার। এরপর সেই বিষয়ে আইনসভা কী করবে, তা তাদের ব্যাপার।' বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi) আরও একধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যদি ডাইনি বিদ্যা (witchcraft) কোনও ধর্মীয় প্রথার অংশ হয়, তবে কি আদালত তা কুসংস্কার বলে চিহ্নিত করতে পারবে না?

এই প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অফ আনঅকুপাইড ফিল্ড’ (doctrine of unoccupied field) ব্যবহার করে আদালত নির্দেশ দিতে পারে কি না, তাও জানতে চান তিনি। মেহতার জবাব, জনস্বাস্থ্য (health), নৈতিকতা (morality) ও জনশৃঙ্খলা (public order)-র ভিত্তিতে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (judicial review) সম্ভব, কুসংস্কারের ভিত্তিতে নয়।

বিচারপতি বি ভি নাগরত্না (Justice B V Nagarathna) মত দেন, কোনও প্রথা ধর্মের মৌলিক অংশ (essential religious practice) কি না তা বিচার করতে হলে সংশ্লিষ্ট ধর্মের দর্শনের (philosophy) আলোকে দেখতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ শবরীমালায় ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। পরে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ (Ranjan Gogoi)-এর বেঞ্চ এই বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠায়। সেই মামলারই শুনানিতে আজ শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ। 


```