শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী বয়সের মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে অবস্থান বদল কেরল সরকারের। নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টে ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে হলফনামা দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলডিএফ সরকার।

সবরীমালা
শেষ আপডেট: 14 March 2026 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা মন্দির (Sabarimala Temple) ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মোড়। কেরল (Kerala) সরকারের বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা এলডিএফ (Left Democratic Front, LDF) সরে এল আগের অবস্থান থেকে। তারা সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জানাতে চলেছে, ৫০ বছরের কম বয়সি মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশ বন্ধ রাখাই উচিত, যাতে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় প্রথা (Religious Customs) বজায় থাকে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Cabinet Meeting) মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) নেতৃত্বাধীন সরকার তিরুবনন্তপুরমের ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের (Travancore Devaswom Board, TDB) প্রস্তাবকে সমর্থন করে। ওই বোর্ডই সবরীমালা মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। বোর্ডের মতে, প্রাচীন রীতি অনুযায়ী ঋতুমতী বয়সের মহিলারা (সাধারণত ৫০ বছরের নীচে) ভগবান আয়াপ্পার (Lord Ayyappa) মন্দিরে প্রবেশ করেন না।
সরকার জানিয়েছে, ১৪ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা (Affidavit) দাখিল করা হবে। আদালত সাতটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন (Constitutional Questions) নিয়ে রাজ্যের মতামত জানতে চেয়েছে। তবে ওই প্রশ্নগুলির কোনওটিতেই সরাসরি মহিলাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে (Verdict) সব বয়সের মহিলাদের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেয়। সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন (Review Petition) নিয়ে আগামী ৭ এপ্রিল থেকে শুনানি শুরু হতে চলেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant)-এর নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চে (Three-judge Bench) শুনানি হবে।
সিপিআই(এম)-এর এই পাল্টে যাওয়া নীতি মোটেও ভালভাবে নেয়নি অনেকে। দলের ভিতরেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে বলে খবর। তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘মত বদল’ বলতে নারাজ সিপিআই(এম)। দলের রাজ্য সম্পাদক এম ভি গোবিন্দন (MV Govindan) সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, দলের মূল অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নগুলি মূলত বিভিন্ন ধর্মের সাংবিধানিক অধিকার (Constitutional Rights) এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা (Religious Freedom) নিয়ে। তাই আইনি বিশেষজ্ঞ (Legal Experts) এবং পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করেই সরকার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।
এদিকে, ২ মার্চ ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, আদালতে তারা জানাবে অল্প বয়সী মহিলাদের প্রবেশের পক্ষে বোর্ড কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান নেয়নি। ২০২০ সালে বোর্ডের এক আইনজীবীর দেওয়া মতামত ছিল ব্যক্তিগত, বোর্ডের সরকারি অবস্থান নয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই অবস্থান বদল পিনারাই বিজয়ন সরকারের। কারণ, ২০১৮ সালের রায়ের পর কেরলে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। তখন এলডিএফ সরকার ওই রায়কে সাংবিধানিক জয় (Constitutional Victory) বলে সমর্থন করে। কিন্তু এবার নির্বাচনের আগে ঐতিহ্যপন্থী ভক্তদের বিরাগভাজন হতে চাইছে না বামেরা। বিশেষ করে কংগ্রেস (Congress) ও বিজেপি (BJP) যাতে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করতে না পারে, সেই হিসেব রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আর তাই এই সিদ্ধান্ত বদল।