শবরীমালা মন্দিরের সোনা-কেলেঙ্কারি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন কার্যনির্বাহী আধিকারিক। দীর্ঘ তদন্তের পর বড় সাফল্য পেল সিট, চাঞ্চল্য কেরলে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 November 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলে (Kerala) শবরীমালা মন্দিরের (Sabarimala Temple) সোনা-গায়েব কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। শনিবার তাঁরা গ্রেফতার করলেন মন্দিরের প্রাক্তন নির্বাহী আধিকারিক সুধীশ কুমারকে (Sudheesh Kumar)। এর আগে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক ব্যবসায়ী ও মূল অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণণ পট্টি (Unnikrishnan Potty) ধরা পড়েছিলেন পুলিশের হাতে।
SIT সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমারকে শনিবার সকালে তিরুবনন্তপুরমের (Thiruvananthapuram) ক্রাইম ব্রাঞ্চ দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। তিনি ২০১৯ সালে মন্দিরের এক্সিকিউটিভ অফিসার ছিলেন। অভিযোগ, সে সময় তিনি মন্দিরের দ্বারপালক মূর্তি (Dwarapalaka idols)–গুলির সোনার প্রলেপ গোপন করে সেগুলিকে সরকারি নথিতে তামার পাত হিসেবে নথিবদ্ধ করেছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কুমার ১৯৯০-এর দশক থেকেই মন্দির প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জানতেন যে ১৯৯৮–৯৯ সালের মধ্যে মন্দিরের গর্ভগৃহ ও দ্বারপালক মূর্তিগুলি সোনায় মোড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে যখন ওই মূর্তিগুলির সোনার প্রলেপ নতুন করে দেওয়ার জন্য উন্নিকৃষ্ণণ পট্টির হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন কুমার নথিতে সেগুলিকে ‘তামার পাত’ বলে উল্লেখ করেন। এতে পট্টির পক্ষে আগের সোনার প্রলেপ সরিয়ে নেওয়া সহজ হয় বলে অভিযোগ।
SIT–এর অন্য এক সদস্য জানিয়েছেন, তদন্তে আরও এক অভিযুক্ত—প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক বি. মুরারী বাবুকেও (B. Murari Babu) গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্নিকৃষ্ণন পট্টির ঘনিষ্ঠ সহচর বাসুদেবনকেও (Vasudevan) জেরা করা হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, দ্বারপালক মূর্তির সোনায় মোড়া অতিরিক্ত পাদপীঠটি তাঁর হেফাজতেই ছিল, যা পরে পট্টির এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, SIT এই মুহূর্তে শবরীমালা মন্দিরের দুটি পৃথক মামলার তদন্ত করছে—একটি দ্বারপালক মূর্তি থেকে সোনা গায়েব হওয়া, অন্যটি মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজার ফ্রেম থেকে সোনা উধাও হওয়ার অভিযোগে। দু’টি ক্ষেত্রেই ২০১৯ সালে ইলেকট্রোপ্লেটিংয়ের জন্য উন্নিকৃষ্ণন পট্টির হাতে ওই সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছিল।