কেরলের শবরীমালা মন্দিরে ভগবান আয়াপ্পার পুজো দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মহিলা রাষ্ট্রপ্রধান এই তীর্থস্থানে পুজো করলেন ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায়।

শবরীমালা মন্দিরে রাষ্ট্রপতি
শেষ আপডেট: 22 October 2025 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের শবরীমালা মন্দিরে বুধবার ভগবান আয়াপ্পাকে পুজো দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও রাষ্ট্রপ্রধান এই বিখ্যাত তীর্থস্থানে পুজো দিলেন গিয়ে। পাম্পা থেকে সন্নিধানম পর্যন্ত পাহাড়ি পথ পেরোতে তাঁর জন্য বিশেষ চার-চাকা গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল এদিন।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ড ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছিল গোটা এলাকা। সন্নিধানমে পৌঁছে ১৮টি পবিত্র সিঁড়ি বেয়ে আয়াপ্পার দরবারে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি মুর্মু।
সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান কেরলের দেবস্বম মন্ত্রী ভি এন বাসাবন এবং ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ডের সভাপতি পি এস প্রশান্ত। মন্দিরের তন্ত্রি কন্দরারু মহেশ মোহনারু তাঁকে পূর্ণ কুম্ভ দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
রাষ্ট্রপতি নিজে মাথায় পবিত্র ইরুমুডিকেট্টু (দেবতার উদ্দেশে নিবেদিত পুজোর সামগ্রী) নিয়ে আয়াপ্পার দর্শন করেন। পরে সেই পবিত্র পোঁটলাগুলি মন্দিরের সিঁড়িতে রেখে দেন তিনি ও তাঁর দল। তাঁদের ইরুমুডিকেট্টু গ্রহণ করে পুজো সম্পন্ন করেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মেলশান্তি।
এরপর রাষ্ট্রপতি কাছাকাছি মালিকাপ্পুরম দেবীর মন্দিরেও পুজো দেন। শেষে দেবস্বম বোর্ডের অতিথিশালায় ফিরে বিশ্রাম নেন ও মধ্যাহ্নভোজ সারেন। এই সময় সাধারণ ভক্তদের দর্শনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
দ্রৌপদী মুর্মু প্রথম মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসেবে শবরীমালার ভগবান আয়াপ্পা দর্শন করলেন। এর আগে ১৯৭০-এর দশকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এই মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
শবরীমালা মন্দিরের গুরুত্ব ও বিতর্ক
এই মন্দিরে পূজিত হন ভগবান আয়াপ্পা। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, এই আয়াপ্পা হলেন শিব ও মোহিনীর পুত্র। মোহিনী, যিনি আদতে ভগবান বিষ্ণু। সমুদ্র মন্থনের সময় অসুর থেকে অমৃত পান থেকে বঞ্চিত করার জন্য তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করে মোহিনী রূপ ধারণ করেন এবং তাঁর এই মোহিনী রূপে আবার আকৃষ্ট হন ভগবান শিব। সেখান থেকে জন্ম হয় ভগবান 'আয়াপ্পার।' পুরাণ মতে, এই আয়াপ্পা সারাজীবন ব্রক্ষ্মচারীর ধর্ম পালন করেছেন।
বিতর্ক শুরু হয় এখান থেকেই। ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে মন্দির কমিটি। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় ঝড় ওঠে। আন্দোলন, বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা নস্যাৎ করে মন্দিরে ওঠার চেষ্টা, কিছুই বাদ যায়নি। মহিলাদের আন্দোলনে একসময় প্রতিদিন শিরোনামে থাকত এই মন্দির। এই নিয়ে বিতর্ক কম-বেশি এখনও রয়েছে। কিন্তু সেই মহিলা রাষ্ট্রপতি হিসেবে এই মন্দিরে পা রাখা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।