শীর্ষ আদালতের ভাষায়, বিচারপতির সিদ্ধান্ত ছিল 'চূড়ান্ত ভুল' এবং 'ন্যায়বিচারের অপমান'। আরও বলা হয়েছিল, 'হাইকোর্টের এই ধরনের রায় দেখে আমাদের বিচারব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।'
_0.jpeg.webp)
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 8 August 2025 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষমেশ হস্তক্ষেপ করতেই হল দেশের প্রধান বিচারপতিকে। সুপ্রিম কোর্টের এক বিতর্কিত রায় ঘিরে মুখোমুখি হয় সুপ্রিম কোর্ট এবং এলাহাবাদ হাইকোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতিকে ফৌজদারি মামলার শুনানি থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় রায় দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন হাইকোর্টের অন্তত ১৩ জন বিচারপতি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে, বিষয়টি নিয়ে আজ ফের শুনানি হয় শীর্ষ আদালতে। এবং সেই সঙ্গেই আগের দেওয়া সেই কড়া নির্দেশ প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, “এই মামলার এখানেই ইতি।”
ঘটনার সূত্রপাত এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার একটি ফৌজদারি মামলার শুনানির সিদ্ধান্ত ঘিরে। তাঁকে এই বিচার থেকে অব্যাহতি দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা এবং আর মহাদেবনের বেঞ্চ। তাঁদের মতে, বিচারপতি কুমার এমন এক মামলায় ফৌজদারি সমন বহাল রেখেছিলেন, যেটি ছিল নিছকই একটি ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত ‘সিভিল ডিসপুট’।
শীর্ষ আদালতের ভাষায়, বিচারপতির সিদ্ধান্ত ছিল 'চূড়ান্ত ভুল' এবং 'ন্যায়বিচারের অপমান'। আরও বলা হয়েছিল, 'হাইকোর্টের এই ধরনের রায় দেখে আমাদের বিচারব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।'
এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাহাবাদ হাইকোর্টের ১৩ জন বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি অরুণ ভানসালিকে চিঠি লিখে তাঁরা আবেদন জানান, যেন ওই রায়কে অমান্য করে হাইকোর্ট একটি পূর্ণাঙ্গ বিচারপতি বৈঠক ডাকে এবং নিজেদের প্রশাসনিক অধিকার বজায় রাখে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতায় নামেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। তিনি বিচারপতি পার্দিওয়ালাদের চিঠি লিখে অনুরোধ করেন, যেন আগের নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করা হয়। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতেই এদিন শীর্ষ আদালত নিজেদের নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়। আগের রায়ের কঠোর শব্দাবলি, বিচারপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া, সবই তুলে নেওয়া হয়।
বিচারপতি পার্দিওয়ালার বেঞ্চ জানায়, 'আমরা কোনও বিচারপতিকে অপমান করতে চাইনি। বিচারব্যবস্থার সম্মান বজায় রাখতেই আমাদের পদক্ষেপ। তবে এখন মনে করা হচ্ছে, এই বিষয়ে আর কিছু বলার নেই। বিষয়টি এখানেই শেষ হল।'
এছাড়াও বেঞ্চটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ বা রোস্টার নির্ধারণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না। বিচারপতি অরুণ ভানসালির প্রশাসনিক ক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেই মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, দুই আদালতের মধ্যে একটি বড় সংঘাতের আবহ তৈরি হলেও, শেষপর্যন্ত বিচারব্যবস্থার ভিত রক্ষা করে গৃহযুদ্ধ এড়ানো গেল প্রধান বিচারপতির সময়োচিত হস্তক্ষেপে।