বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, মাথেরানে হাত রিকশ চলবে আর মাত্র ৬ মাস। এই সময়সীমার মধ্যেই তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। রাজ্য সরকারকে বলা হয়েছে, যথাসম্ভব দ্রুত ই-রিকশা চালুর জন্য একটি বাস্তবমুখী স্কিম তৈরি করতে।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 6 August 2025 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও পাহাড়ি শহর মাথেরানে চলে হাতে টানা রিকশ। এই বিষয়টিকেই 'অমানবিক' বলে তীব্র ভাষায় নিন্দা করল দেশের শীর্ষ আদালত। বলল, মানুষ দিয়ে মানুষ টানানো এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। এটি সংবিধানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেমানান।
বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, মাথেরানে হাত রিকশ চলবে আর মাত্র ৬ মাস। এই সময়সীমার মধ্যেই তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। রাজ্য সরকারকে বলা হয়েছে, যথাসম্ভব দ্রুত ই-রিকশা চালুর জন্য একটি বাস্তবমুখী স্কিম তৈরি করতে।
অমানবিক পেশা, বিকল্প খুঁজতে হবে
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, মানুষ হাত দিয়ে মানুষকে টানছে, এই চিত্র ২০২৫ সালে আর মানায় না। বিচারপতিরা বলেন, 'জীবিকা নির্বাহের চাপে পড়েই মানুষ এমন অমানবিক কাজ করতে বাধ্য হয়। এই ছবি একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে লজ্জাজনক।' আদালতের বক্তব্য, স্বাধীনতার ৭৮ বছর এবং সংবিধান চালুর ৭৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, তবু সমাজের একাংশ এখনও একজন মানুষকে দিয়ে গাড়ি টানাচ্ছে, এ যেন নিজেদেরই দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা।
আদালতের কী কী নির্দেশ দিল?
ই-রিকশই ভবিষ্যৎ
উল্লেখ্য, পরিবেশ সুরক্ষার কারণে মাথেরানে মোটরগাড়ি নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র ইমার্জেন্সি অবস্থায় ফায়ার ব্রিগেড ও অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকে। তাই বিকল্প হিসেবে আদালত ২০২২ সাল থেকেই মাথেরানে পরীক্ষামূলকভাবে ই-রিকশ চালুর অনুমতি দিয়েছিল।
পরবর্তীতে ঘোড়াওয়ালা সংগঠনগুলির আপত্তি আসে এবং আদালতের কাছে বিষয়টি ওঠে। সেই মামলার শুনানিতেই আজ সুপ্রিম কোর্ট বলল, 'তহবিল না থাকাকে আমরা কোনও অজুহাত হিসেবে মানি না। এই অমানবিক প্রথা বন্ধ করতে রাজ্য সরকারকে উপযুক্ত সহায়তা করতেই হবে।'
বিচারপতিরা এদিন স্মরণ করিয়ে দেন, আজাদ রিকশ পুলারস ইউনিয়ন বনাম পাঞ্জাব সরকার মামলায় আদালত বলেছিল, সাইকেল রিকশর অনুমতিও সামাজিক ন্যায়বিচারের সংবিধানিক অঙ্গীকারের পরিপন্থী। তখন কেটেছে ৪৫ বছর, এখনও মাথেরানে এই অমানবিক রীতির চল রয়েছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এই বিষয়টি বুধবার সামনে আসতেই কলকাতায় যে হাতে গোনা কয়েকটি এমন রিকশ চালু রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কলকাতার ঐতিহ্য এই রিকশগুলোও কি তবে খুব শীঘ্রই উবে যাবে শহর থেকে?