চলতি বছরের শুরুতে বিচারপতির বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের পর একটি বিশেষ ইন-হাউস তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত রিপোর্টেই বিচারপতির অপসারণের সুপারিশ করা হয়।

বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা
শেষ আপডেট: 7 August 2025 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নগদ কাণ্ডে চাপ বাড়ল বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার (Justice Yashwant Verma)। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বৃহস্পতিবার তাঁর দাখিল করা সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে যেখানে তিনি তাঁর অপসারণের সুপারিশকারী ইন-হাউস কমিটির (In-House Committee) রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।
শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে এখন সংসদ বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (Impeachment) প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে পারবে। উল্লেখ্য, তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান অপসারণের সুপারিশপত্রও আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।
এদিন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি এজি মাসিহের বেঞ্চ জানিয়েছে, ইন-হাউস কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং তদন্তের রীতি আইনবিরুদ্ধ নয়। আদালত জানায়, "সিজেআই ও ইন-হাউস কমিটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে কাজ করেছে। তদন্ত চলাকালীন ছবি ও ভিডিও আপলোড না করায় কোনও ত্রুটি হয়নি। আর তা নিয়েই তখন কোনও আপত্তিও তোলা হয়নি।"
শীর্ষ আদালত আরও জানায়, প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো চিঠি সংবিধানবিরুদ্ধ নয়। আদালত বলে, "আমরা কিছু পর্যবেক্ষণ রেখেছি, যেখানে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আপনি বিষয়টি নতুন করে তুলতে পারেন।"
এই রায়ের পর বিচারপতি ভার্মার অপসারণের পথে আর কোনও আইনি বাধা থাকল না। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারণ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়া সাংবিধানিক কাঠামোর অন্তর্গত, যা বিচারবিভাগের নিজস্ব সিদ্ধান্তের মধ্যেই পড়ে।
এই রায়ে বিচারপতি বর্মার বিরুদ্ধে অপসারণের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে বহুবার বিচারবিভাগীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এই মামলাটি নতুন করে সেই আলোচনায় ঘি ঢালল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।