বাংলার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ সময়সীমার কারণে খারিজ হলেও, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে তাঁর বায়োডেটাতে এই ঘটনার বিবরণ রাখতে হবে।
.jpeg.webp)
সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 14 September 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো:‘ভুল যিনি করেছেন তাঁকে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু ভুলকে কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’ সম্প্রতি এমনই এক পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ সময়সীমার কারণে খারিজ হলেও, শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে এই ঘটনার বিবরণ তাঁ বায়োডেটাতে রাখতে হবে, যাতে তা তাঁকে সারাজীবন তাড়া করে বেড়ায়।
ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এক অধ্যাপিকা অভিযোগ করেছিলেন, উপাচার্য তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছেন। তবে অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অভিযোগ কমিটি (এলসিসি) বিষয়টি খারিজ করে দেয়। সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
শুক্রবার বিচারপতি পঙ্কজ মিথল এবং প্রসন্ন বি বরালের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, অভিযোগকারিণীর ক্ষোভ হয়তো আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে খতিয়ে দেখা সম্ভব নয়, কিন্তু তা বিস্মৃত হওয়ার নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘অভিযুক্তকে ক্ষমা করা যেতে পারে, কিন্তু তাঁর করা কাজ যেন আজীবন তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।’ সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এই রায়কে অভিযুক্ত উপাচার্যকে বায়োডেটাতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অভিযোগের নথি অনুযায়ী, প্রথমবার ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে উপাচার্য ওই অধ্যাপিকাকে ডিনারে যেতে বলেন এবং দাবি করেন এতে তাঁর ব্যক্তিগত উপকার হবে। অধ্যাপিকা রাজি না হলে, তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নানা সময়ে উপাচার্যের তরফে অনৈতিক প্রস্তাব আসে। কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা নির্ধারিত সময়সীমা (৩ মাস, সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত বর্ধিতযোগ্য) অতিক্রম করায় খারিজ হয়ে যায়।
২০২৪ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এলসিসির সিদ্ধান্ত বাতিল করে অভিযোগটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে পরে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এপ্রিল ২০২৩-এর পর যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছিল, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের যৌথ সিদ্ধান্ত এবং সেগুলি যৌন হেনস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়।
অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানাল, অভিযোগটি সময়সীমার বাইরে। তবে অভিযুক্ত প্রাক্তন উপাচার্যের বায়োডেটাতে এই রায়ের কপি থাকা বাধ্যতামূলক, যাতে ঘটনার কথা তিনি সারাজীবন মনে রাখেন।