শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এই বিষয় নিয়ে বারবার কেন আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এর আগে একাধিকবার একই ধরনের আবেদন করা হয়েছে এবং তা খারিজ হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালেও এ নিয়ে একটি মামলা খারিজ হয়েছিল।

শেষ আপডেট: 12 March 2026 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম (Netaji Ashes) ভারতে আনার দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি করতেই চাইল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নেতাজির প্রপৌত্র আশিস রায় এই আবেদন করেছিলেন। পরে আদালতের মনোভাব দেখে আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে তাঁর আইনজীবী এদিন শীর্ষ আদালতকেই জানিয়ে দেন, এবার এই মামলা তথা আবেদন করবেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর (Netaji’s daughter) মেয়ে অনিতা বোস পাফ (Anita Bose Pfaff)। এদিন শুনানির সময়ে অনলাইনে অনিতাও উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলিও। আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করছিলেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি।
শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এই বিষয় নিয়ে বারবার কেন আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এর আগে একাধিকবার একই ধরনের আবেদন করা হয়েছে এবং তা খারিজ হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালেও এ নিয়ে একটি মামলা খারিজ হয়েছিল। এই সময়ে অভিষেক সিঙ্ঘভি আদালতকে জানান, আগের আবেদনগুলিতে মূলত নেতাজি জীবিত আছেন কি না তা নিয়ে তদন্তের দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান আবেদনের উদ্দেশ্য হল জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজির চিতাভষ্ম ভারতে আনা।
প্রধান বিচারপতি তখন প্রশ্ন করেন, “প্রথমেই জানতে চাই, সেই চিতাভষ্ম কোথায়?” অভিষেক সিঙ্ঘভি জবাবে বলেন, ভারতের বহু রাষ্ট্রপ্রধানই রেনকোজি মন্দিরে গিয়ে সেই অস্থির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এই সময়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী তাঁর কন্যা। যদি তিনি সত্যিই অস্থি ভারতে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আবেদনকারী হিসেবে আদালতে আসতে হবে।
বিচারপতি বাগচীর মন্তব্য, “যিনি প্রকৃত উত্তরাধিকারী, তিনি এই মামলার আবেদনকারী নন। যদি নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে আনার দাবি থাকে, তবে সেই উত্তরাধিকারীকেই সরাসরি আদালতে আসতে হবে। পর্দার আড়াল থেকে লড়াই করা চলবে না। আমরা অবশ্যই তাঁদের আবেগকে সম্মান করি এবং চাই সেই আবেগ আইনি পথে বাস্তব রূপ পাক। কিন্তু তার জন্য তাঁকেই সামনে এসে আবেদন করতে হবে। আমাদের যতদূর ধারণা, পরিবারে এ বিষয়টি নিয়ে মতভেদও রয়েছে।”
সিঙ্ঘভি জানান, নেতাজির কন্যা অনলাইনে উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি এই দাবিকে সমর্থন করেন। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেহেতু তিনি মামলার আবেদনকারী নন, তাই তাঁর বক্তব্য শোনা হবে না। এরপর আইনজীবী জানান, নেতাজির কন্যা নিজেই নতুন করে আবেদন করবেন। সেই কারণে বর্তমান আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান তিনি। আদালত সেই অনুমতি দেয় এবং মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নথিভুক্ত করা হয়।