ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আইএএস বন্দনা বৈদ্য জানিয়েছেন, পুলিশের অভিযানের কথা তিনি প্রথম জানতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেই আসর ভেঙে দেয় মধ্যপ্রদেশ পুলিশ
শেষ আপডেট: 12 March 2026 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএএস আধিকারিকের ফার্মহাউসে অবাধে বসত জুয়ার আসর (IAS officer farmhouse gambling)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেই আসর ভেঙে দেয় মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। ইন্দোর জেলার ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে শুরু হয়েছে বিতর্ক (Indore gambling racket police raid)।
অভিযোগ, সেই জুয়ার আসর চলছিল এক সিনিয়র আইএএস আধিকারিকের নামে নথিভুক্ত একটি ফার্মহাউসে (IAS officer farmhouse gambling controversy)। পুলিশের অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়, আরও কয়েকজন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার ওই ফার্মহাউসে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, মূল ফটকটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ। তবে ভেতর থেকে লোকজনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল।
এরপর পুলিশ ফার্মহাউসের পিছনের গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। সেখানে ঢুকেই তারা দেখতে পায়, বারান্দায় বসে একদল ব্যক্তি তাস-জুয়া খেলছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুরো জায়গাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ।
অভিযানে মোট ১৮ জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। তবে পাঁচ জন অভিযুক্ত অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
কার ফার্মহাউসে চলছিল জুয়ার আসর?
পুলিশ জানিয়েছে, যে ফার্মহাউসে অভিযান চালানো হয় সেটি নথিভুক্ত রয়েছে প্রাক্তন শাহডোল জেলার কালেক্টরের নামে এবং বর্তমানে সেটি বন্দনা বৈদ্যর নামে রয়েছে। বন্দনা বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ সরকারের অধীন ফাইন্যান্স ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে কর্মরত। তাঁর স্বামী অম্বরিশ বৈদ্যর নামও এই সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশি অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৩.৬৭ লক্ষ টাকা নগদ, তাসের প্যাকেট, ৩০টি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ২৮.৬৭ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি
পুলিশ জানিয়েছে, যাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জগদীশ রাথোড়, যিনি ‘আঙ্কল’ ও ‘কুবাদা’ নামেও পরিচিত, এছাড়া গোপাল, পাপ্পু, আশিস জৈন এবং ফার্মহাউসের কেয়ারটেকার রঞ্জিত চৌধুরি। এই পাঁচজনের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
ইন্দোরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে জগদীশ রাথোড়ই এই জুয়ার চক্রের মূল মাথা। অন্যদিকে অভিযোগ, কেয়ারটেকার রঞ্জিত চৌধুরী টাকার বিনিময়ে ওই ফার্মহাউসটি জুয়ার আসর বসানোর জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন।
বড় জুয়ার চক্রের সূত্র খুঁজছে পুলিশ
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলি এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানতে চাইছে, এই জুয়ার আসরটি শুধুই স্থানীয় স্তরের ছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও সংগঠিত বেটিং নেটওয়ার্ক কাজ করছিল।
যদি ফোনের ডেটা থেকে বড় কোনও চক্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে এই মামলার তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
কী বললেন আইএএস আধিকারিক?
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আইএএস বন্দনা বৈদ্য জানিয়েছেন, পুলিশের অভিযানের কথা তিনি প্রথম জানতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তাঁর দাবি, ফার্মহাউসটি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং সেটি একজন কেয়ারটেকারের তত্ত্বাবধানে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। পুলিশের হাতে ধরা পড়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
এছাড়া তাঁর অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া কেউ ওই সম্পত্তিতে প্রবেশ করে থাকতে পারে এবং সেখানে চুরির ঘটনাও ঘটতে পারে, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।