জম্মু–কাশ্মীরের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শাবির আহমেদ শাহকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট।

শাবির আহমেদ শাহ
শেষ আপডেট: 12 March 2026 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় (Jammu and Kashmir Terror Funding Case) বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শাবির আহমেদ শাহ (Shabir Ahmad Shah)-কে জামিন (Bail) দিল শীর্ষ আদালত। এদিন শুনানির পর আদালত জানায়, বিস্তারিত শর্ত (Bail Conditions) শিগগিরই লিখিত নির্দেশে জানানো হবে। সেই শর্ত মানলে কার্যকর হবে শাহের মুক্তি।
এই মামলায় শবির শাহের হয়ে সওয়াল করেন সিনিয়র আইনজীবী কলিন গনসালভেস (Colin Gonsalves)। অন্যদিকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (National Investigation Agency বা NIA) হয়ে আদালতে হাজির ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা (Siddharth Luthra)। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পরই বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
শুনানির সময় আদালত জানায়, জামিনের শর্তাবলি উল্লেখ করে বিস্তারিত লিখিত নির্দেশ (Detailed Order) খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। সেই নির্দেশে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে শাহের মুক্তির নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা।
জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম পরিচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী মুখ শবির আহমেদ শাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের (Terror Funding) গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ (Separatist Activities) চালাতে আর্থিক সহায়তা করেছিল সে।
শুনানির সময় আদালত মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় (Trial) কিছু অসঙ্গতির কথাও তুলে ধরে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে শাহের জেলে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বেঞ্চ। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট শাহকে অন্তর্বর্তী জামিন (Interim Bail) দিতে অস্বীকার করেছিল। পাশাপাশি ১২ জুন ২০২৫-এ দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) যে জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল, তার বিরুদ্ধে করা আবেদনের বিষয়ে এনআইএ-কে (NIA) নোটিস জারি করেছিল শীর্ষ আদালত।
দিল্লি হাইকোর্ট তখন জানিয়েছিল, শাহ মুক্তি পেলে তিনি আবার একই ধরনের বেআইনি কাজ (Unlawful Activities) করতে পারে কিংবা সাক্ষীদের প্রভাবিত (Influence Witnesses) করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। অভিযোগ ছিল, পাথর ছোড়া (Stone Pelting), সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর (Public Property Damage) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) বিরুদ্ধে যুদ্ধের ষড়যন্ত্র (Conspiracy to Wage War) করার জন্য অর্থ জোগাড় করা হয়েছিল।
এনআইএ-র অভিযোগ, হাওলা লেনদেন (Hawala Transactions) এবং নিয়ন্ত্রণরেখা পারাপারের বাণিজ্য (Cross-LoC Trade)-এর মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হত। সেই অর্থ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি কার্যকলাপ (Militant Activities) উসকে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।