রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনই বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাম্প্রতিক রাজ্য সফরের পরই এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 March 2026 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) প্রস্তুতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক হতে চলেছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির (Calcutta High Court Chief Justice) সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO Manoj Agarwal)। বৃহস্পতিবার এই বৈঠক হওয়ার কথা। মূলত নির্বাচনী সংক্রান্ত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়েই আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবর।
সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেসব আবেদন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে, সেই অভিযোগ বা আপিলের (West Bengal SIR) দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। সেই নির্দেশ কার্যকর করার পথ খুঁজতেই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই বৈঠক কমিশনের। পাশাপাশি, ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনই বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাম্প্রতিক রাজ্য সফরের পরই এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে। তবে সেই সফরের সময়ই রাজ্যে কর্মরত বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
এই প্রেক্ষাপটেই আরও এক ধাপ সক্রিয় হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটে থেকে সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত দুটি আলাদা সময়ে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। এই বৈঠকে রাজ্যের মোট ২৫টি প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা।
এই আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, দফতরের পরিচালক, উপপরিচালক সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নজরদারি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, সেই বিষয়গুলিই এই বৈঠকে মূলত পর্যালোচনা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই সংস্থাকেও বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং রাজ্য স্তরের ব্যাঙ্কারদের সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধিদের সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে কমিশনের তরফে। নির্বাচন ঘিরে আর্থিক লেনদেন ও নজরদারির বিষয়টিও যাতে সঠিকভাবে তদারকি করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।
কী বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, যেসব আবেদন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে, সেগুলির আপিল শুনতে একটি বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। সেই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর সঙ্গে থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতিরা। এই ট্রাইব্যুনালের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে নির্বাচন কমিশন (ECI)।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, জুডিশিয়াল অফিসাররা ইতিমধ্যেই বিপুল চাপের মধ্যে কাজ করছেন। শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়েছে যে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে, যার ফলে আপিলের সংখ্যা বিপুল হতে পারে।
এহেন পরিস্থিতি আইনজীবী গোপাল এস আদালতকে বলেন, যদি সব আপিল হাইকোর্টে যায়, তাহলে আদালতের উপর বিশাল চাপ পড়বে। সুতরাং এর একটা বিহিত বন্দোবস্ত করা দরকার। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করে। আদালত নির্দেশ দেয়—একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। তাঁর সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক প্রাক্তন বিচারপতি থাকতে পারেন। ট্রাইব্যুনালের সদস্য সংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো যাবে। পুরো খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী প্রাক্তন বিচারপতিদের নাম সুপারিশ করতে বলা হয়।