১০ বছরের আইনি লড়াই শেষে এক দাম্পত্যকে ‘মৃত বিবাহ’ ঘোষণা করে বিচ্ছেদ মঞ্জুর করল। ৮০টি মামলা খারিজ, স্ত্রীর জন্য ৫ কোটি টাকার ভরণপোষণের নির্দেশ।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 9 April 2026 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও কখনও এক ছাদের নীচে কাটানো মুহূর্তগুলোই দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় (Divorce case India)। ২০১০ সালে স্বপ্নের মতো শুরু হওয়া এক দাম্পত্য ২০১৬ সালে এসে এমন মোড় নেয়, যা পরবর্তী ১০ বছর ধরে শুধু ঘৃণা আর আইনি মারপ্যাঁচে আটকে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতি বিক্রমনাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই দীর্ঘ লড়াইকে 'মহাভারতের যুদ্ধ' বলে বর্ণনা করেছেন। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত জানাল, ১০ বছরের এই লড়াই বিবাহটিকে এক মৃতপ্রায় অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে ফেরার আর কোনও রাস্তা নেই।
দীর্ঘ ১০ বছরের এক যন্ত্রণাদায়ক আইনি লড়াই এবং প্রায় ৮০টি মামলার পাহাড় পেরিয়ে অবশেষে এক দম্পতির তিক্ত সম্পর্কের অবসান ঘটাল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রমনাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই দীর্ঘস্থায়ী বিবাদকে 'মহাভারতের যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০১০ সালে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া এই দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে ২০১৬ সালে, যখন তাঁরা আলাদা হয়ে যান। সেই সময় থেকেই শুরু হয় এক লড়াই, যা কেবল আদালতের চারদেওয়ালেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ঘৃণা ও প্রতিহিংসার এক নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এক দশকের এই আইনি যুদ্ধ বিবাহটিকে এতটাই ক্ষতবিক্ষত করেছে যে এটি এখন একটি 'মৃত বিবাহ' ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত এই বিষাক্ত সম্পর্কের ইতি টেনেছে।
এই মামলার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিকটি হল স্বামীর আইনিজীবী হওয়ার অপব্যবহার করা। পেশায় একজন আইনজীবী হওয়ার সুবাদে তিনি তাঁর স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ির সদস্য এবং এমনকি স্ত্রীর আইনজীবীদের বিরুদ্ধেও একের পর এক প্রায় ৮০টি মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মামলাগুলোর বেশিরভাগই ছিল প্রতিহিংসামূলক এবং স্ত্রীকে চূড়ান্তভাবে হয়রান করার নামান্তর। স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, স্বামী তাঁদের দুই সন্তানের ন্যূনতম ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছেন এবং যে ফ্ল্যাটে তাঁরা থাকতেন, সেখান থেকেও তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়েছেন। যদিও স্বামী নিজেকেই মানসিক নির্যাতনের শিকার এবং বর্তমানে কর্মহীন ও নিঃস্ব বলে দাবি করেছিলেন, তবুও আদালত তাঁর এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বরং আদালত মনে করেছে, স্বামী তাঁর আর্থিক দায়বদ্ধতা এড়াতে সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সংস্থার কাজ ছেড়েছেন এবং আইনি মারপ্যাঁচে মামলাটিকে জটিল করে তুলেছেন।
শেষ পর্যন্ত আদালত মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে। রায়ে জানানো হয়েছে যে, উভয় পুত্র সন্তানের হেফাজত মায়ের কাছেই থাকবে, তবে বাবার দেখা করার অধিকার বজায় রাখা হয়েছে। আদালত স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী এক বছরের মধ্যে তাঁর বিবাহবিচ্ছিন্না স্ত্রীকে এককালীন ৫ কোটি টাকা ভরণপোষণ বাবদ পরিশোধ করতে হবে। এই বিপুল অর্থ হাতে পাওয়ার পর স্ত্রী তাঁর শ্বশুরের ফ্ল্যাটটি শান্তিপূর্ণভাবে খালি করে দেবেন। একই সঙ্গে স্বামীর দায়ের করা ৮০টি প্রতিহিংসামূলক মামলাই এখন রদ হয়ে যাবে। এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট কেবল একটি দীর্ঘস্থায়ী মামলার নিষ্পত্তি করেনি, বরং একজন মা ও তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করে এক দশকের দুঃস্বপ্নের ইতি টানল।