মহেন্দ্র রেড্ডি-র বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—চিকিৎসক স্ত্রী কৃতিকা রেড্ডি-কে অতিরিক্ত অ্যানাস্থেটিক দিয়ে খুন! ইউপিআই চ্যাটে মিলল প্রেমিকার সঙ্গে গোপন কথোপকথন, নতুন মোড় নিল মামলা।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 April 2026 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসক (Bengaluru case) স্ত্রীকে খুনের মামলায় এক বছর পর বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এল। অভিযুক্ত সার্জন স্বামী মহেন্দ্র রেড্ডির ডিজিটাল পায়ের ছাপ এবং গোপন চ্যাট উদ্ধার হতেই এই হত্যাকাণ্ড এক নতুন মোড় নিয়েছে (Surgeon crime)।গত বছরের ২১ এপ্রিল চিকিৎসক কৃতিকা রেড্ডির (Kritika Reddy) মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক বলে মনে করা হলেও, তদন্তে উঠে এল এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের হাড়হিম করা চিত্র। অভিযুক্ত স্বামী মহেন্দ্র রেড্ডি (Mahendra Reddy), যিনি পেশায় একজন সার্জন, নিজের চিকিৎসা জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে স্ত্রীকে অতিরিক্ত অ্যানাস্থেটিক ডোজ দিয়ে খুন করেছেন বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা গেছে, এই অপরাধ আড়াল করতে তিনি প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মহেন্দ্রর সঙ্গে এক নার্সের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। পুলিশি নজরদারি এড়াতে তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপের মতো পরিচিত মাধ্যম ব্যবহার না করে ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট অ্যাপের মেসেজ ফিচারের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান করতেন। ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ লক্ষ ডিজিটাল ফাইলের মধ্যে এমন কিছু চ্যাট পাওয়া গেছে যা মহেন্দ্রর অপরাধের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।
উদ্ধার হওয়া একটি মেসেজে মহেন্দ্র তাঁর প্রেমিকাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, "পুলিশ যদি সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করে, বলবে আমরা বন্ধু।" এমনকি অন্য একটি বার্তায় তিনি স্বীকারোক্তির সুরে লিখেছিলেন, "আমার কাছে প্রমাণ নেই, কিন্তু আমি কৃতিকাকে খুন করেছি... আমাকে জেলে যেতে হবে।" এছাড়াও ধরা পড়ার ভয়ে তিনি প্রেমিকাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যেন আপাতত তাঁকে কোনো কল বা টেক্সট করা না হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে বিয়ে হওয়া এই দম্পতি একই হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাটক করলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মহেন্দ্রর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে মেলা এই বিপুল পরিমাণ তথ্যকে ভিত্তি করে ইতিমধ্যেই চার্জশিট গঠন করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব ও ডিজিটাল প্রমাণের সত্যতা বিচার করে স্থানীয় আদালত মহেন্দ্রর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।