এক আইনজীবী প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ছ’টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর আর্জি ছিল, বিহারের এসআইআর মামলার সঙ্গে বাংলার এই হিংসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলিও যেন এ দিনই শোনা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ফের উঠে এল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। মঙ্গলবার বিহারের এসআইআর (Bihar SIR) সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময়ই প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে আবেদন জানানো হয়, যাতে বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাগুলিরও শুনানি একসঙ্গে করা হয়। তবে সেই আবেদনে গুরুত্ব দেয়নি শীর্ষ আদালত।
এক আইনজীবী প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ছ’টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর আর্জি ছিল, বিহারের এসআইআর মামলার সঙ্গে বাংলার এই হিংসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলিও যেন এ দিনই শোনা হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে আলাদা করে দ্রুত শুনানির প্রয়োজন নেই।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “কপিল সিব্বলের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মামলা আমরা গতকালই শুনেছি। ইতিমধ্যেই নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।” ফলে এ দিন নতুন করে কোনও নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি আদালত।
এর আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। ওই মামলায় আবেদনকারী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন। এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাঁরা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।
শুনানিতে সিব্বল অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন (ECI) এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি নিয়মমাফিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে না দিয়ে সমাজমাধ্যমের উপর নির্ভর করছে। তাঁর দাবি, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কমিশনের তৈরি তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিব্বলের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের বহু ভোটারকে অযৌক্তিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
সোমবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে জবাব দেওয়ার জন্য দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। যদিও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই আবেদন আংশিক মেনে কমিশনকে এক সপ্তাহ সময় দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আগামী ১৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব লাগাতার নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে আসছে। জনসভা থেকে প্রশাসনিক স্তর - সব জায়গাতেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) কাছে পাঁচটি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও তিনি শুনানিতে ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন, কখনও আবার ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যুর দাবি করেছেন।
সোমবার পাঠানো সর্বশেষ চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। এমনকি শুনানির সময় নথি জমা দেওয়া হলেও কোনও রসিদ বা লিখিত প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের হয়ে আদালতে সওয়ালও করবেন তিনি। সেই বক্তব্যের পরই এসআইআর শুনানিতে ভোটারদের ‘হেনস্থা’র অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে।