সোমবার বিকেলে লালবাজারে পথসুরক্ষা নিয়ে আয়োজিত হাফ ম্যারাথনের জার্সি প্রকাশের সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সংযত প্রতিক্রিয়া দেন পুলিশ কমিশনার। মনোজ ভার্মা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

মনোজ ভার্মা
শেষ আপডেট: 12 January 2026 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি (IPAC Pratik Jain) ও দফতরে ইডি হানার (ED Raid at IPAC Kolkata) ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতি ও প্রশাসনে উত্তাপ বাড়ছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাল্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। সেই মামলায় কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার (CP Manoj Verma) নাম উঠে আসায় বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
সোমবার বিকেলে লালবাজারে পথসুরক্ষা নিয়ে আয়োজিত হাফ ম্যারাথনের জার্সি প্রকাশের সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সংযত প্রতিক্রিয়া দেন পুলিশ কমিশনার। মনোজ ভার্মা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “দু’টি কেস করা হয়েছে এবং দু’টিরই তদন্ত চলছে। এর বাইরে এখন কোনও মন্তব্য করা যাবে না। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।”
তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র শোনা কথার ভিত্তিতে মন্তব্য করা উচিত নয়। যেহেতু গোটা বিষয়টি আদালতের নজরে রয়েছে, তাই তদন্ত চলাকালীন কোনও বক্তব্য দেওয়া সঠিক হবে না বলেই মত তাঁর।
এদিনই অবশ্য ভিন্ন সুর শোনা যায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisekh Banerjee) কণ্ঠে। অন্য এক কর্মসূচিতে তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত নয়, তথ্য চুরি করতেই ইডি আইপ্যাকের দফতরে (IPAC Kolkata) গিয়েছিল। অভিষেকের দাবি, আইপ্যাকের তিনজন ডিরেক্টরের মধ্যে শুধুমাত্র কলকাতার ডিরেক্টরের বাড়িতে কেন তল্লাশি চালানো হল, দিল্লি বা চেন্নাইয়ে কেন নয় - এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ইডিকে।
গত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি পেগাসাস কাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন। অভিষেকের বক্তব্য, আগের বার যেমন বিজেপি হেরেছিল, তেমনই এবারও হারবে। এর আগেও তিনি দাবি করেছিলেন, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি অ্যাপ তৃণমূলের জন্য তৈরি করা এবং গরিব মানুষের সহায়তার কাজেই আইপ্যাককে নিশানা করা হয়েছে।
ইডি বলছে কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তেই এই তল্লাশি অভিযান করা হয়েছে। সেই অভিযান চলাকালীন আইপ্যাকের কর্ণধার এবং সংস্থার অফিসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া এবং একাধিক ফাইল বের করে আনা নিয়ে আপাতত রাজ্য-জাতীয় রাজনীতি তোলপাড়। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত মামলা হয়েছে। এই অবস্থায় অভিষেকের সাফ কথা - এই কাণ্ডে যদি আইপ্যাক যুক্ত হয় তাহলে কলকাতা ছাড়াও দেশের বাকি আইপ্যাকের অফিসে রেইড হওয়া উচিত। কিন্তু তেমনটা না হয়ে শুধু কলকাতায় হয়েছে। কেন, কী কারণ, সেটাই সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা।
আইপ্যাক–ইডি বিতর্কে আপাতত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর চলছেই।