২০১৭ সালে শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই সংশোধিত হয় ‘ম্যাটারনিটি বেনিফিট অ্যাক্ট’। ছুটি বাড়ানো হয় ১২ সপ্তাহ থেকে ২৬ সপ্তাহে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 May 2025 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাতৃত্বকালীন ছুটি একজন নারীর অধিকার—এমনই ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি অভয় এস ওকা ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, কোনও প্রতিষ্ঠানই কোনও মহিলাকে মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।
তামিলনাড়ুর এক সরকারি শিক্ষিকার মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দেয় আদালত। দ্বিতীয় বিবাহের পরে মাতৃত্বকালীন ছুটি চাইলেও, তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় সংশ্লিষ্ট দফতর। যুক্তি দেওয়া হয়, তাঁর প্রথম বিবাহে দুই সন্তান ছিল এবং তামিলনাড়ু সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কেবলমাত্র প্রথম দুই সন্তানের জন্যই মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া যায়।
পিটিশনার জানান, প্রথম দুই সন্তানের জন্মের সময় তিনি কর্মজীবী ছিলেন না। সে কারণে কোনও ছুটি বা মাতৃত্ব-সুবিধা পাননি। সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তিনি দ্বিতীয় বিবাহের পরে। তৃতীয় সন্তানের জন্মের পরে মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন তিনি।
আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করে আইনজীবী কে ভি মুত্থুকুমার যুক্তি দেন, এই ছুটি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। কারণ পূর্বে তিনি মাতৃত্বকালীন কোনও সুবিধাই পাননি। আদালত একমত হয়ে জানায়, ‘‘মাতৃত্বকালীন ছুটি শুধু কর্মস্থলের কোনও নীতি নয়, এটি নারীর স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত একটি মৌলিক বিষয়। এটি তাঁর অধিকার।’’
২০১৭ সালে শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই সংশোধিত হয় ‘ম্যাটারনিটি বেনিফিট অ্যাক্ট’। ছুটি বাড়ানো হয় ১২ সপ্তাহ থেকে ২৬ সপ্তাহে। দত্তক নেওয়া সন্তানদের ক্ষেত্রেও ১২ সপ্তাহের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়। শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, “একজন নারী যদি পূর্বে মাতৃত্বকালীন ছুটি না পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে সেই অধিকারের থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, কেবল সন্তানের সংখ্যা দেখিয়ে।” এই রায়ের ফলে বহু কর্মজীবী মহিলা ভবিষ্যতে তাঁদের মাতৃত্বকালীন অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।