বছরের পর বছর আদালত আতশবাজির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে আসছে, কারণ দীপাবলির সময় দূষণ ‘ভয়াবহ’ স্তরে পৌঁছয়।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 12 September 2025 20:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দেশে আতশবাজির (fire cracker in India) উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য শুক্রবার কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme court)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আতশবাজি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র দিল্লি বা এনসিআর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, সব রাজ্যের মানুষেরই পরিষ্কার বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই (chief justice B R Gavai) বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট দিল্লিতে রয়েছে, তার মানে এই নয় যে শুধু দিল্লির বাসিন্দারাই পরিষ্কার বাতাসের দাবিদার (Delhi air quality)। পাঞ্জাবের অমৃতসরের (Amritsar Punjab air pollution) মতো শহরেও দূষণ তীব্রমাত্রায় রয়েছে।” তিনি জানান, গত বছর অমৃতসর সফরে গিয়ে তিনি দেখেছিলেন, সেখানে বায়ুদূষণের মাত্রা দিল্লির চেয়েও বেশি।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, “দিল্লির মানুষ উচ্চবিত্ত বলে অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা বিশুদ্ধ বাতাসের অধিকারী নন, এমনটা হতে পারে না। তাই একটি সর্বভারতীয় নীতি প্রয়োজন।”
এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি ও এনসিআর-এ আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছিল। আদালত জানিয়েছিল, কয়েক মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি রাখলে তেমন কোনও সুফল পাওয়া যাবে না।
বছরের পর বছর আদালত আতশবাজির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে আসছে, কারণ দীপাবলির সময় দূষণ ‘ভয়াবহ’ স্তরে পৌঁছয়। বিচারপতি এ এস ওকা, যিনি বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার সঙ্গে মামলাটি শুনছিলেন, বলেন, “বায়ুদূষণের মাত্রা মাসের পর মাস বিপজ্জনক স্তরে থেকে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষত যাঁরা রাস্তায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রত্যেকের ঘর বা অফিসে এয়ার পিউরিফায়ার রাখার সামর্থ্য নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিকার একান্ত প্রয়োজনীয়, তেমনই দূষণমুক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকারও সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।”
আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আতশবাজির উপর নিষেধাজ্ঞা শুধু কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলকে নয়, সমগ্র দেশকেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকারকে দ্রুত সর্বভারতীয় নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।