সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে আদালত চত্বরে অবাধ ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এমনকী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও রেজোলিউশন পাস করেছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 September 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মর্যাদা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নতুন নির্দেশিকা জারি করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দেশের শীর্ষ আদালতের সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে (Notice) জানানো হয়েছে, এখন থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাই সিকিউরিটি জোনে (High Security Zone) কোনও রকম ছবি তোলা (Photography) বা ভিডিও (Videography) করা যাবে না, সরকারি কাজ ছাড়া।
আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে - হাই সিকিউরিটি জোনে আইনজীবী, মামলাকারী, ইন্টার্ন, ল ক্লার্ক এবং সাংবাদিকরা আর মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ট্রাইপড বা সেলফি স্টিক ব্যবহার করে ছবি তুলতে বা রিল বানাতে পারবেন না। সাক্ষাৎকার ও লাইভ সম্প্রচার কেবলমাত্র লো সিকিউরিটি জোনে অবস্থিত নির্দিষ্ট মিডিয়া লনে করা যাবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে —
হাই সিকিউরিটি জোনে ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, শুধুমাত্র সরকারি প্রয়োজনে অনুমোদিত।
মিডিয়া কর্মীরা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মিডিয়া লনে সাক্ষাৎকার বা সংবাদ সম্প্রচার করতে পারবেন।
হাই সিকিউরিটি জোনের লনেও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছবি তোলা বা ভিডিও করা যাবে না।
ক্যামেরা, ট্রাইপড, সেলফি-স্টিক ইত্যাদি সরঞ্জাম ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, সরকারি কাজে ছাড়া।
নির্দেশ লঙ্ঘন করলে আইনজীবী, ইন্টার্ন বা ল ক্লার্কের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বা স্টেট বার কাউন্সিল ব্যবস্থা নেবে।
সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এক মাস পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের হাই সিকিউরিটি জোনে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
রেজিস্ট্রির কর্মীরা নিয়ম ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অন্য সংস্থার কর্মীরা নিয়ম ভাঙলে তাদের বিভাগীয় প্রধানকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হবে।
নিরাপত্তারক্ষীরা প্রয়োজনে কাউকে ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে বাধা দিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে আদালত চত্বরে অবাধ ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এমনকী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও রেজোলিউশন পাস করে জানিয়েছিল, আদালত প্রাঙ্গণে ভিডিওগ্রাফি, রিল বানানো বা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কনটেন্ট তৈরির মতো কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
এরপরই দেখা গেল সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল। এমনিতেই শীর্ষ আদালতে রোজই সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ভিড় থাকে। আর সাম্প্রতিক সময়ে ভিডিও বা রিল বানানোর প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে। এতে যেমন শীর্ষ আদালতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, ঠিক তেমনই গোপন অনেক খবর প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কাও থাকছে। তাই বলাই বাহুল্য, এই নির্দেশিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।