এদিন আদালতে উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিচারপতিরা জানতে চান, অযোগ্য প্রার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ার যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট আগেই দিয়েছিল, তার প্রক্রিয়া কি শুরু হয়েছে? এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সম্প্রতি ৭ তারিখের পরীক্ষা নির্ঝঞ্ঝাটে সম্পন্ন হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ফেরত দেওয়ার কাজও এগোচ্ছে।
কিন্তু আদালত তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, এসএসসি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে স্বচ্ছতার অভাব চোখে পড়ছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, “এই তালিকায় এত বিভ্রান্তি কেন? স্পষ্ট তথ্য দিতে সমস্যা কোথায়?”
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে চলতি বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট পুরো নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে দেয়। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারান। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পরে আংশিক সংশোধন আনা হয়। তবু আদালতের প্রধান নির্দেশ স্পষ্ট, যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করে দেখাতে হবে।
শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই এসএসসি ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করে। সেই তালিকায় বিকাশ পাত্রের নাম থাকায় তিনি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। কিন্তু আদালতের সর্বশেষ মন্তব্য প্রমাণ করে দিয়েছে, একবার অযোগ্য বলে ঘোষিত হলে চাকরি ফেরার সম্ভাবনা আর থাকে না।
এই রায়ের মাধ্যমে যেন আরও একবার স্পষ্ট হল, অযোগ্য প্রার্থীদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দরজা কার্যত বন্ধ।