ভয়ঙ্কর কষ্ট, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দেশে এসে পৌঁছেছেন ১১০ জন ছাত্রছাত্রী।

বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তাঁরা এসে পৌঁছন নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে।
শেষ আপডেট: 19 June 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে আর্মেনিয়া-দোহা ঘুরে বিমানে দিল্লি। সেখান থেকে লড়ঝড়ে বাসে চেপে শ্রীনগর। ভয়ঙ্কর কষ্ট, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দেশে এসে পৌঁছেছেন ১১০ জন ছাত্রছাত্রী। যাঁরা ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন ইরানের পশ্চিম আজারবাইজানের উরমিয়া মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তাঁরা এসে পৌঁছন নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে। ভারত সরকারের ‘অপারেশন সিন্ধু’র অন্তর্গত এই উদ্ধার অভিযান ঘিরে তাঁরাই জানালেন রণক্ষেত্রের চোখে দেখা খবরাখবর এবং যাত্রাপথের কষ্টকর অবস্থার কথা।
আলি নামে এক ছাত্র জানান, আমাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর ও উৎকণ্ঠার যাত্রাপথ ছিল এটা। আমরা যেখানে ছিলাম তার চারদিকে হামলা, বোমাবর্ষণ চলছিল। বিশেষ করে তেহরান ও সংলগ্ন এলাকায়। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন সীমান্তের দিকে এগোচ্ছিলাম, তখন আমাদের বাসের খুব কাছেই একটা ক্ষেপণাস্ত্র এসে আছড়ে পড়ে। আমরা খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। অনেকে কাঁদতেও শুরু করে দিয়েছিল। বেঁচে ঘরে ফিরতে পারব, অনেকে ভাবতেই পারিনি।
ভারতীয় দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলি বলেন, দূতাবাসের অফিসাররাই প্রথমে আমাদের সীমান্ত পেরতে সাহায্য করেন। আমরা ইরান ছেড়ে প্রথমে আর্মেনিয়া এসে পৌঁছই। ওখানে আমরা পুরো একটা দিন কাটিয়েছি। পরে আমরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করি।
Operation Sindhu brings people home.
110 Indian students evacuated from Iran under #OperationSindhu have safely arrived in New Delhi on a special flight from Yerevan, Armenia. MoS @KVSinghMPGonda received them at the airport.
Government of 🇮🇳 remains committed to the safety of… pic.twitter.com/GwhI5R26DE— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) June 19, 2025
The Chief Minister has taken note of the request of the students evacuated from Iran regarding the quality of buses arranged to transport them from Delhi to J&K. The Resident Commissioner has been tasked with coordinating with the JKRTC to ensure proper deluxe buses are arranged.
— Office of Chief Minister, J&K (@CM_JnK) June 19, 2025
কাশ্মীরের ডাক্তারি ছাত্রী শেখ আফসা বলেন, ঘুরতে ঘুরতে আসার পথে আমরা সকলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। এই অবস্থায় এরকম একটা বাসে ফেরা আরও কষ্টকর ও দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের জন্য যে বাস দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত লড়ঝড়ে। এতটা পথ পাড়ি দেওয়ার মতোই নয়। জম্মু-কাশ্মীর সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার কাছে তাঁর অনুরোধ তিনি যেন বিকল্প ব্যবস্থা নেন।
আরেক ছাত্রী বলেন, এই যুদ্ধ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব থেমে যাক। আমাদের সামনেই প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস পড়ে আছে। আমরা ডাক্তারি পাস করতে চাই তাড়াতাড়ি। যে ১১০ জন ছাত্রছাত্রীকে এদিন নিয়ে আসা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৯০ জন হলেন জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা।
পড়ুয়াদের অসুবিধার কথা জেনে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সকলের জন্য আরামদায়ক, বিলাসবহুল বাসের বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে এক্সবার্তায় জানিয়েছেন, সকলের জন্য রাজ্য সরকার ডিলাক্স বাসের ব্যবস্থা করবে। জম্মু-কাশ্মীর সড়ক পরিবহণ নিগমকে বলা হয়েছে রাজ্যের পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত ডিলাক্স বাসের ব্যবস্থা করতে। তিনি নিজে বিষয়টি তদারক করবেন বলেও পড়ুয়াদের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।