প্রশাসনের তরফে অবশ্য গাফিলতির কথা মেনে নেওয়া হয়নি। উল্টে তাদের দাবি, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ওমর আবদুল্লা
শেষ আপডেট: 28 August 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবহাওয়া খরাপ ছিলই, সতর্কবার্তাও ছিল, তাও কেন পদক্ষেপ করল না প্রশাসন? বৈষ্ণোদেবীর ভূমিধস ও মৃত্যু মিছিল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর একটাই বক্তব্য, সব কিছু জানা সত্ত্বেও কেন বন্ধ হল না যাত্রা! মঙ্গলবার দুপুরে কাটরার অর্ধকুয়ারি অঞ্চলে এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জনের। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন ।
গত কয়েকমাসে কাশ্মীরে একাধিক বিপর্যয়, প্রথম থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছেন ওমর আবদুল্লা। তুলেছেন একাধিক প্রশ্ন। কেন সবকিছু জানা সত্ত্বেও আটকানো যাচ্ছে না দুর্ঘটনা। কেন সচেতন হচ্ছে না প্রশাসন! এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বক্তব্য, 'যখন আমরা আগে থেকেই জানতাম ভারী বৃষ্টি আর মেঘভাঙার আশঙ্কা রয়েছে, তখন কি কিছু ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল না? এতগুলো অমূল্য প্রাণ চলে গেল। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা এসেছিল কয়েক দিন আগেই। তবুও তীর্থযাত্রীদের ট্র্যাকে উঠতে দেওয়া হল, কেন তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হল না?' তাঁর কথায়, এখনই সময়, এ নিয়ে প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে।
প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও। মাত্র দু'সপ্তাহ আগে কিশতোয়ারে ফ্ল্যাশফ্লাডের ঘটনায় শতাধিক তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। তখনও আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছিল বৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে। তবু যাত্রা থামানো হয়নি। এবারও একই অভিযোগ।
প্রশাসনের তরফে অবশ্য গাফিলতির কথা মেনে নেওয়া হয়নি। উল্টে তাদের দাবি, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিংহ, যিনি বৈষ্ণোদেবী মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যানও, কাটরার নারায়ণা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে গিয়ে আহত তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রত্যেককে যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে, দুর্গত পরিবারের পাশে প্রশাসন থাকবে। পাশাপাশি রাজ্যের দুর্যোগকবলিত অঞ্চলগুলিতে জরুরি পরিষেবা দ্রুত চালু করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বিজেপির সাংসদ জুগল কিশোর শর্মা বলেন, 'আহতরা ভাল চিকিৎসা পাচ্ছেন। ১৪ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি। ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের মরদেহ তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে মন্দির ট্রাস্ট।'
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার বিকেল তিনটে নাগাদ, প্রবল বর্ষণে ধস নামে অর্ধকুয়ারি গুহামন্দিরের কাছে, ইন্দরপ্রস্থ ভোজনালয়ের লাগোয়া অংশে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বহু তীর্থযাত্রীর। এ দিনই জম্মুতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৮০ মিমি বৃষ্টি হয়, যা গত একশো বছরের মধ্যে সর্বাধিক। ফলে একাধিক জায়গায় ভূমিধস হয়। বন্ধ হয়ে যায় জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে। আবহাওয়া দফতর জানায়, পরবর্তী দু’দিন বৃষ্টি কমবে। তবে এতগুলো প্রাণহানির পর, প্রশাসনের গাফিলতি নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি চাপ বাড়ছে।