ভারী বৃষ্টির জেরে স্রোতে ভেসে গিয়েছে সেতু, বিদ্যুতের খুঁটি, টেলিফোন টাওয়ার। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 27 August 2025 22:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে ফের বিপর্যয়। প্রবল বর্ষণে ভূমিধস নামল কাটরার অর্ধকুমারী এলাকার বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে। বুধবার সকালে হঠাৎ ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৬ জনের, জখম বহু। আরও অনেক যাত্রী ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজে নেমেছে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সেনা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।
প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩,৫০০-রও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ জায়গায়। জম্মু শহরে প্রায় ২৯৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে এক দিনে, যা ভেঙে দিয়েছে ১৯৭৩ সালের রেকর্ড। উধমপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৬২৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা সেখানে একদিনে সর্বকালের সর্বাধিক।
ভারী বৃষ্টির জেরে স্রোতে ভেসে গিয়েছে সেতু, বিদ্যুতের খুঁটি, টেলিফোন টাওয়ার। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জেল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে একের পর এক ফোন আসছে সাহায্যের জন্য। ঝিলম নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছুঁয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কাশ্মীরে জারি হয়েছে বন্যা সতর্কতা।
জম্মুর স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাতিল করা হয়েছে বোর্ড পরীক্ষাও। মঙ্গলবার থেকে ব্যাহত ছিল রেল পরিষেবা। বুধবার বিকেলে কিছু ট্রেন চলাচল শুরু হলেও বহু ট্রেন বাতিল বা শর্ট-টার্মিনেট করতে হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আকাশপথেও বিপর্যয় রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছিল লেহ-তে বিমান ওঠানামা, পরে জম্মু বিমানবন্দর থেকে ধীরে ধীরে চালু হয় পরিষেবা।
আবহাওয়া দফতর ব্যাখ্যা দিয়েছে এই প্রবল বৃষ্টির। জানিয়েছে, সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবল বর্ষণ চলছে। আগামী কয়েকদিনও এই পরিস্থিতি থাকতে পারে।
সবকিছুর পর মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পরও রাজ্য প্রশাসন কোনও শিক্ষা নিয়েছিল কি? অন্য দিকে, লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত বিদ্যুৎ, জল এবং যোগাযোগ পরিষেবা স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেন। নিহতদের পরিবারকে রাজ্য প্রশাসন, তীর্থক্ষেত্র বোর্ড এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের তরফে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।