পরিবার জানায়, ২০১৫ সালে খানাখানপেটের পুলা নরেশ বাবুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল লক্ষ্মীর। দেওয়া হয়েছিল পণ। কিন্তু তাতে মেটেনি লোভ।

লক্ষী ও পুলা নরেশ বাবু
শেষ আপডেট: 26 August 2025 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডার পর তেলঙ্গানা। পণের দাবিতে শারীরিক অত্যাচার। না খেতে পেয়ে তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগ।
স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লক্ষ্মী প্রসন্না নামে ওই তরুণীর ওপর অকথ্য অত্যাচার চালায়। তরুণীর পরিবারের দাবি, কোঠাগুডেম জেলায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাঁকে। খেতে দেওয়া হত না, চলত নিয়মিত মারধর। অবশেষে শনিবার অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার রাজামহেন্দ্রবরম সরকারি হাসপাতাল মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবার জানায়, ২০১৫ সালে খানাখানপেটের পুলা নরেশ বাবুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল লক্ষ্মীর। বিয়ের সময় ২ একর আমবাগান, আধ একর চাষের জমি, ১০ লক্ষ টাকা নগদ, আরও ১০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না দিয়েছিলেন তাঁরা। তবুও নরেশ ও তাঁর পরিবার লক্ষ্মীকে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত পণের জন্য চাপ দিত।
তরুণীর বাবা-মায়ের দাবি, গত দু’বছর ধরে মেয়েকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। ফোন ব্যবহার বা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে দেওয়া হত না। ‘ওকে না খাইয়ে, মারধর করে শেষ পর্যন্ত মেরেই ফেলেছে ওরা,’ কান্নাজড়ানো গলায় অভিযোগ তাঁদের।
শনিবার সকালে নরেশ শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে জানান, স্ত্রী সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি। বাবা-মা গিয়ে দেখে, লক্ষ্মী কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছে, শরীরে একাধিক নতুন ও পুরনো আঘাতের চিহ্ন।
এই ঘটনায় লক্ষ্মীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহজনক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত নরেশ, তাঁর মা বিজয়লক্ষ্মী, বোন দাসারি ভূলা লক্ষ্মী এবং ভগ্নিপতি শ্রীনিবাস রাও-র বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে লক্ষ্মীর ভগ্নিপতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রসন্না রক্তাল্পতা ও থাইরয়েডে ভুগছিলেন। খেতে না দেওয়া বা মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন।