গত বৃহস্পতিবার একই কারণে নিক্কির সঙ্গে অশান্তি শুরু হয় তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি দয়ার। মারধর করা হয় তরুণীকে। এরপরই গায়ে পেট্রল ঢেলে বোনের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ দিদি (সম্পর্কে জা-ও) কাঞ্চনের।

নিক্কি হত্যাকাণ্ড
শেষ আপডেট: 25 August 2025 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পণপ্রথা নিষিদ্ধ হওয়ার ছ'দশক পরও স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির হাতে নৃশংসভাবে খুন হতে হল উত্তরপ্রদেশের ২৮ বছরের তরুণী নিক্কি ভাটিকে (Nikki Bhati Murder Case)। ৩৬ লক্ষ টাকার জন্য জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাঁকে, এমনটাই অভিযোগ। মেয়ের মৃত্যু-শোকের মধ্যেই পণ প্রথা নিয়েই মুখ খুললেন নিক্কির বাবা।
এক সংবাদমাধ্যমে নিক্কির বাবা জানিয়েছেন, 'আমাদের সমাজে পণ দিয়েই বিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৬-র নোটবন্দির (Demonetisation) সময় আমার দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দু'জনকেই বিয়ের সময় যথেষ্ট জিনিসপত্র দিয়েছি।'
মৃতার পরিবার দাবি করেছে, 'অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিক্কি, কাঞ্চন এবং তাঁদের সন্তানরা গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বাপের বাড়ি চলে যান। কিন্তু বিপিন ক্ষমা চেয়ে তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু তার কয়েকদিন পরই আবার নির্যাতন শুরু হয়।'
'সব জানার পরও কেন মেয়েকে সম্পর্ক থেকে বের করে আনেননি?' এই প্রশ্নের উত্তরে নিক্কির বাবা উত্তর দেন, 'আমাদের সমাজ এবং পঞ্চায়েতের কথা ও নিয়ম মেনে চলতে হয়।'
গত বৃহস্পতিবার একই কারণে নিক্কির সঙ্গে অশান্তি শুরু হয় তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি দয়ার। মারধর করা হয় তরুণীকে। এরপরই গায়ে পেট্রল ঢেলে বোনের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ দিদি (সম্পর্কে জা-ও) কাঞ্চনের।
মৃতার বাবা জানিয়েছেন, 'আমার বড় মেয়ে ফোন করে বলে, বাবা নিক্কিকে জ্বালিয়ে মেরে দিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'নিক্কির শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ওকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথেই মৃত্যু হয় মেয়ের।'
অন্যদিকে, নিজের চোখের সামনে মা'কে আগুনে পুড়তে দেখেছে ৭ বছরের সন্তান। সেও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পুলিশকে বয়ান দিয়েছে। জানা গেছে, ছেলেটি এখন তাঁর দাদু-দিদার সঙ্গে রয়েছে। নিক্কির বাবা বলেন, 'আমার নাতি প্রতিদিন মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করে। শুধু বলে যায়, ওঁরা আমার মার গায়ের আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।'
কাঞ্চনের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Nikki Bhati Dowry Murder Case)। ইতিমধ্যেই নিক্কির স্বামী বিপিন, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং দেওরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছেন মৃতার পরিবার-সহ সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি রিলে কাঞ্চন জানিয়েছেন, 'তিনি এবং নিক্কি একটি সালোঁ চালাতেন (Salon Business)। কিন্তু বিপিন বা তাঁর বাড়ির কেউই এটা পছন্দ করতেন না। নিক্কি নিজের শখে ইনস্টাগ্রামে রিল বানাতেন, তাতেও আপত্তি ছিল স্বামীর।
ইনস্টাগ্রাম রিলে কাঞ্চন আরও জানিয়েছেন, 'বোনের সাত বছরের একটি ছেলে আছে। ওর মুখের দিকে তাকিয়েই সব সহ্য করছিল। ভেবেছিল, আজ নয়তো কাল, সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশাই করেছিল। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি পরিস্থিতি এত মর্মান্তিক হয়ে যাবে।'