কাঞ্চনের অভিযোগ, নিক্কির বাবা স্করপিও এসইউভি, রয়্যাল এনফিল্ড বাইক, গয়না এবং প্রচুর নগদ টাকা দিয়েছিলেন। তবুও দিনের পর দিন পণের দাবিতে অত্যাচার চলত তাঁর বোনের অভিযোগ।

'স্বাধীন' হতে চেয়েই কি খুন হতে হল নিক্কিকে?
শেষ আপডেট: 25 August 2025 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা নিক্কিকে খুনের ঘটনা গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে (Nikki Murder case)। পণের দাবিতে ২৮ বছরের তরুণীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। একই বাড়িতে বিয়ে হয়েছিল নিক্কির দিদি কাঞ্চনেরও। বোনের নৃশংস খুনের পর মুখ খুললেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে জানালেন কীভাবে তাঁর বোনকে নানা কাজে বাঁধা দিতেন বিপিন (UP Dowry Murder Case)।
কাঞ্চন জানিয়েছেন, ছ'মাস আগেই গ্রেটার নয়ডার শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে দাদরিতে বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন নিক্কি। পঞ্চায়েত বসলে বিপিন ক্ষমা চান এবং সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে স্ত্রীর ওপর অত্যাচার করবেন না। তারপর নিক্কি সব ভুলে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।
নিক্কি এবং কাঞ্চন একটি সালোঁ চালাতেন (Salon Business)। কিন্তু বিপিন বা তাঁর বাড়ির কেউই এটা পছন্দ করতেন না। নিক্কি নিজের শখে ইনস্টাগ্রামে রিল বানাতেন, তাতেও আপত্তি ছিল স্বামীর।
কাঞ্চনের অভিযোগ, নিক্কির বাবা স্করপিও এসইউভি, রয়্যাল এনফিল্ড বাইক, গয়না এবং প্রচুর নগদ টাকা দিয়েছিলেন। তবুও দিনের পর দিন পণের দাবিতে অত্যাচার চলত তাঁর বোনের অভিযোগ।
গত বৃহস্পতিবার একই কারণে নিক্কির সঙ্গে অশান্তি শুরু হয় তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি দয়ার। মারধর করা হয় তরুণীকে। এরপরই গায়ে পেট্রল ঢেলে বোনের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ কাঞ্চনের।
ইনস্টাগ্রাম রিলে কাঞ্চন আরও জানিয়েছেন, 'বোনের সাত বছরের একটি ছেলে আছে। ওর মুখের দিকে তাকিয়েই সব সহ্য করছিল। ভেবেছিল, আজ নয়তো কাল, সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশাই করেছিল। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি পরিস্থিতি এত মর্মান্তিক হয়ে যাবে।'
তিনি আরও বলেন, 'এখন মনে হচ্ছে ফেব্রুয়ারির ১১,১২ তারিখে বিপিন ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সমাজের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসি।
কাঞ্চনের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই নিক্কির স্বামী বিপিন, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং দেওরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছেন মৃতার পরিবার-সহ সাধারণ মানুষ।