অভিযুক্ত স্বামী বিপিন ভাটি প্রথমে নিক্কির মৃত্যু আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আবেগঘন’ পোস্ট করেও সে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চেয়েছিল।
.jpeg.webp)
বিপিন ও নিক্কি ভাটি
শেষ আপডেট: 24 August 2025 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida) সীরসা গ্রামে পণ-নির্যাতনের শিকার (Noida Dowry Death) হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ বছরের নিক্কি ভাটি। ২০১৬ সালে বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করছিলেন তিনি। অবশেষে গত সপ্তাহে সেই নির্যাতনই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিক্কির ছয় বছরের ছেলেই ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী। সে জানায়, “আমার মায়ের উপর কিছু ঢাললো, তারপর চড় মেরে লাইটার দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিল।”
স্বামীর বাড়ির লোকেদের হাতে মারধর, টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া, জ্বালিয়ে দেওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় নিক্কিকে দিল্লির এক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি প্রাণ হারান। বোন কাঞ্চন, যিনি একই পরিবারের আর এক সদস্যকে বিয়ে করেছিলেন, তিনিও মারধরের শিকার হন। তবে তিনি আংশিকভাবে ওই নৃশংস ঘটনার ভিডিও করতে পেরেছিলেন, যা এখন প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত স্বামী বিপিন ভাটি প্রথমে নিক্কির মৃত্যু আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আবেগঘন’ পোস্ট করেও সে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চেয়েছিল। তবে শনিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রবিবার বিপিন পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তার পায়ে গুলি করেন অফিসাররা। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সে।
নিক্কির মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মেয়ের ওপর নির্যাতনের কথা তারা আগেও জেনেছিলেন। বলেন, “আমরা দু’বার ওকে বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওকে ফের নিয়ে যায়। নির্যাতন বন্ধ হয়নি।” তাঁর কথায়, মেয়ের বিশ্বাস ছিল, “একদিন ভাল সময় আসবেই।”
এদিকে পুলিশের গুলি খেয়ে (Noida cops shoot dowry death accused in leg) হাসপাতালের বেডে শুয়ে বিপিনের সাফাই, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া স্বাভাবিক। আমি কিছু করিনি। আমার কোনও অনুতাপও নেই। ও নিজেই মরেছে।”
নিক্কির পরিবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে। তাঁদের দাবি, বিপিনের বাড়ি ভেঙে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।