এক পুলিশ অফিসারের দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হয়েছেন মহারাষ্ট্রের এক তরুণী চিকিৎসক।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রশান্ত হল ২৯ বছর ওই ডাক্তারের বাড়িওয়ালার ছেলে।
শেষ আপডেট: 25 October 2025 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক পুলিশ অফিসারের দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলে আত্মঘাতী হয়েছেন মহারাষ্ট্রের এক তরুণী চিকিৎসক। সেই ঘটনায় শনিবার পুলিশ অভিযুক্তদের একজন প্রশান্ত বনকরকে গ্রেফতার করেছে। আরেক অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টর গোপাল বাদনে এখনও পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রশান্ত হল ২৯ বছর ওই ডাক্তারের বাড়িওয়ালার ছেলে।
হাসপাতালের কাছে একটি হোটেলে উঠে মৃত্যুর আগে বাঁ হাতের তালুতে লিখে গিয়েছিলেন অভিযুক্তদের নাম— আর সেই লেখাই এখন তদন্তের মূল সূত্র। সূত্রের খবর, শুধু হাতে নয়, চার পাতার একটি ‘সুইসাইড নোট’ও রেখে গিয়েছেন তিনি, যাতে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। দাবি, তাতে এক সাংসদের নামও রয়েছে, যিনি ফোন করে তাঁকে ভুয়ো রিপোর্ট তৈরির চাপ দিতেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতারা জেলার ফলটনের ওই হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় মহিলা চিকিৎসকের ঝুলন্ত দেহ। তিনি ওই এলাকার মহকুমা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন। পুলিশের দাবি, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ হোটেলের বন্ধ ঘর খুলে দেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরেই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আত্মহত্যার আগে নিজের বাঁ হাতের তালুতে লিখে গিয়েছিলেন চিকিৎসক, কেন নিজেকে শেষ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবারের দাবি, সেটাই তাঁর ‘সুইসাইড নোট’। সেই নোটে লেখা ছিল, গত পাঁচ মাসে এসআই গোপাল তাঁকে চার বার ধর্ষণ করেছে। আরও এক পুলিশকর্মী নিয়মিত মানসিক হেনস্থা করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, মৃত চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপে কাজ করতে হচ্ছিল। তাঁর ভাইয়ের দাবি, দিদিকে জোর করে মিথ্যা ময়নাতদন্ত এবং ফিটনেস রিপোর্ট বানাতে বাধ্য করা হত। পুলিশ ও নেতাদের চাপে ও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল। তিনি জানান, এর বিরুদ্ধে দিদি ডিসিপির কাছে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একই দাবি তুলেছেন চিকিৎসকের কাকাও। তাঁর কথায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বদলানোর জন্য ওর উপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। সেই চাপ আসছিল পুলিশের ভিতর থেকেই। মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশনের প্রধান রূপালী চাকঙ্কর বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সাতারা জেলা পুলিশকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ রেহাই পাবে না।