লাহোরি চিকেন হোক কিংবা গোস্ত পাখতুনি। টম্যাটো ছাড়া রং ও স্বাদের খুশবু ছোটে না।

আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা টম্যাটো আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টম্যাটোর অভাবে হাঁড়ি চড়া বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে পাকিস্তানে। লাহোরি চিকেন হোক কিংবা গোস্ত পাখতুনি। টম্যাটো ছাড়া রং ও স্বাদের খুশবু ছোটে না। কিন্তু, প্রায় সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে দুদেশের সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ। ফলে আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা টম্যাটো আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানে আর পাঁচটা নিত্যপ্রয়োজনীয় ফল-সবজির মতোই টম্যাটোর দাম লাগামছাড়া হয়ে গিয়েছে। জায়গা বুঝে টম্যাটোর দাম ৬০০-৭০০ পাকিস্তানি টাকা হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষ হাহাকার করছেন দু-চারটে টম্যাটো খরিদের জন্য।
পাক-আফগান যুদ্ধের জেরে দুদেশের সীমান্ত বাণিজ্যপথগুলি বন্ধ রয়েছে গত ১১ অক্টোবর থেকে। এই অবস্থায় আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা সব পণ্যদ্রব্যের দাম চড়েছে। কিন্তু, প্রতিটি পাক পরিবারের হেঁসেল আবশ্যিক সবজি টম্যাটোর রুদ্রমূর্তিতে সাধারণ মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। যুদ্ধের জন্য টম্যাটোর দাম প্রায় ৪০০ শতাংশ চড়েছে।
প্রতি কেজি টম্যাটোর দাম ৬০০ পাকিস্তানি টাকা বা ২.১৩ ডলার হয়ে গিয়েছে। সাধারণ দামের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর, আফগানিস্তান থেকে আমদানি একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ইসলামাবাদের বাসিন্দা শান মেসিয়া সৌদি আরবের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, টম্যাটোর দাম আকাশ ছুঁয়েছে। আমরা পাকিস্তানিরা সব ধরনের ঝোল-ঝাল রান্নায় টম্যাটো দিই। ফলে সাধারণ মানুষ খুব সমস্যায় পড়েছেন।
পাক-আফগান যুদ্ধের ফলে সীমান্তের দুপারেই অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। তোরখাম এবং চমন স্থলবন্দরের দরজা বন্ধ। পাক-আফগান চেম্বার অফ কমার্সের প্রধান কাবুল থেকে জানান, প্রায় ৫ হাজার কন্টেনার তোরখাম ও চমনের দুধারে পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুদেশই প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ডলারের লোকসান করছে। কাঁচা সবজি, ফল, খনিজ, ওষুধ, গম, চাল, চিনি, মাংস এবং দুগ্ধজাত সামগ্রী মিলিয়ে প্রতিবছর প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়ে দুদেশের মধ্যে।
স্থানীয় টম্যাটো ব্যবসায়ীরা বলেন, আপাতত ইরান, সিন্ধু প্রদেশ, কোয়েট্টা থেকে টম্যাটো এনে বাজারের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। সরবরাহ কমলেও চাহিদা একই রয়েছে। সীমান্ত বন্ধ হওয়ার আগে পাকিস্তান রোজ আফগানিস্তান থেকে ৮০-১২০ ট্রাক টম্যাটো আমদানি করত। এখন মাত্র ১০-১৫ ট্রাক টম্যাটো আসছে ইরান, সোয়াট (পাকিস্তান) থেকে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।