তেল বাণিজ্য, শুল্ক মাশুল, অপারেশন সিঁদুর থামিয়ে দেওয়ার বৈশ্বিক রাজনীতির মাঝে বিরাট বোমা ফাটালেন আমেরিকার চর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন এক অফিসার।

মোশারফ দুমুখো নীতি নিয়ে চলতে শুরু করলেন।
শেষ আপডেট: 25 October 2025 10:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেল বাণিজ্য, শুল্ক মাশুল, অপারেশন সিঁদুর থামিয়ে দেওয়ার বৈশ্বিক রাজনীতির মাঝে বিরাট বোমা ফাটালেন আমেরিকার চর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন এক অফিসার। তাঁর দাবি, একসময় পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিল আমেরিকা। কারণ, ওয়াশিংটনের কাছে খবর ছিল যে, ২৬/১১-র পর ভারত হামলা চালাতে পারে পাকিস্তানের উপর। কিন্তু, সংসদ বা মুম্বই হামলার পরেও সেরকম কিছু না ঘটায় খুশিই হয়েছিল হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন চর সংস্থা সিআইএর প্রাক্তন অফিসার জন কিরিয়াকোউয়ের দাবি, পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশারফের জমানায় আমেরিকা ওদেশে লক্ষ কোটি ডলার ঢেলেছিল। যার বিনিময়ে আমেরিকা ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের সমর্থন খরিদ করে নিয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, অর্থের বিনিময়ে মোশারফ দেশের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারের চাবি আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
জন বলেন, ২০০২ সালে আমি যখন পাকিস্তান ছিলাম, আমাকে বেসরকারিভাবে জানানো হয়েছিল যে, আমেরিকার সামরিক সদর দফতর পেন্টাগন পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের উপর কবজা করে নিয়েছে। কারণ মোশারফকে আমেরিকা বুঝিয়েছিল যে, তাঁর দেশের পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডারের দখল নিতে পারে জঙ্গিরা। তাতেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন মোশারফ, জানান জন।
জন জানান, পাকিস্তানি পরমাণু বোমার জনক আবদুল কাদির খানকে হত্যার ছক কষা হয়েছিল। কারণ সৌদি আরব আমাদের এই কাজ করতে নিষেধ করেছিল। সৌদি আরব আমাদের বলেছিল, তাঁকে একলা ছেড়ে দিতে। তিনি বলেন, আমরা যদি সেদিন ইজরায়েলের নীতিতে চলতাম, তাহলে এ কিউ খানকে মেরে দিতাম। কারণ, পাকিস্তানে তখন আমাদের যেখানে-সেখানে যাওয়ার অনুমতি ছিল। ওনাকে খুঁজে বের করতে সময় লাগত না। কিন্তু সৌদিরা এগিয়ে আসে ওনাকে বাঁচাতে। সৌদি আরব জানায়, ওনাকে একলা ছেড়ে দিন দয়া করে। আমরা ওনাকে পছন্দ করি। আমরা ওনার সঙ্গে কাজ করছি। জনের মতে, সেটাই ওয়াশিংটনের সবথেকে বড় ভুল ছিল। কারণ সিআইএ এবং আইএইএ-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, আবদুল কাদির খানকে খুন না করতে। এরপরেই সৌদিরা পরমাণু কার্যসূচি চালু করে বলে তাঁর ধারণা। জনের অনুমান, এতদিনে সৌদি আরবও নিশ্চই পরমাণু বোমা তৈরি করে ফেলতে পারে।
জন জানান, মোশারফের আমলে পাকিস্তানের স্বাধীনভাবে কাজ করত আমেরিকা। আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল ছিল। সত্যি কথা বলতে কী, আমেরিকা চিরকালই একনায়কতান্ত্রিক শাসকের সঙ্গে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। কারণ সেখানে জনমত নিয়ে মাথাব্যথার কিছু থাকে না। এমনকী প্রচারমাধ্যমও মুঠোয় থাকে। তাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, অর্থ ছড়িয়ে মোশারফকে কিনে নাও।
মোশারফকে আমরা লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ডলার দিয়েছি। যখন ইচ্ছে তাঁর সঙ্গে দেখা করা যেত। সপ্তাহে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। আর উনিও আমাদের যা খুশি করার ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছিলেন। মোশারফ চাইতেন সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে। আর তাঁর সেনারা আল কায়েদা নিয়ে চিন্তায় ছিল না, তারা চাইত ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। সে কারণে মোশারফ দুমুখো নীতি নিয়ে চলতে শুরু করলেন। তিনি আমেরিকার সামনে জঙ্গি বিরোধী মুখ হয়ে থেকে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলায় উসকানি দিতে থাকলেন।
প্রায় ১৫ বছর টানা সিআইএ-র অ্যানালিস্ট হিসেবে প্রথমে এবং পরে সন্ত্রাসদমন বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে জনের। তাঁর কথায়, গোটা পাকিস্তান দুর্নীতির গভীর পর্যন্ত পোঁতা রয়েছে। যে দেশে সাধারণ মানুষ না খেতে পেয়ে মরছে, সেখানে বেনজির ভুট্টোর মতো নেত্রীরা রাজসুখে দিন কাটাতেন। তিনিই জানান, নির্বাসিত অবস্থায় বেনজির দুবাইয়ে একটি ৫০ লক্ষ ডলারের প্রাসাদে থাকতেন। শুধু তাই নয়, তাঁর কাছে বেন্টলে গাড়ির পুরো সম্ভার ছিল।