টাকার দাবি মেটাতে অস্বীকার করায় উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে বাবা-মাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে। দেহ টুকরো করে নদীতে ফেলে দিয়ে নিখোঁজের নাটক সাজানো চেষ্টা।

বাবা-মাকে মেরে জেলে যুবক
শেষ আপডেট: 18 December 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে (Jaunpur) ষাটোর্ধ্ব এক দম্পতির খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ হদিশ পেল জোড়া খুনের। অভিযোগ, নিজের বাবা-মাকে খুন করে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দিয়েছে তাঁদের ছেলে। অভিযুক্তের নাম অম্বেশ (Ambesh)। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মৃত দম্পতির নাম শ্যাম বাহাদুর (Shyam Bahadur) ও ববিতা (Babita)। শ্যাম বাহাদুর ছিলেন প্রাক্তন রেলকর্মী (Retired Railway employee)। পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে এক মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করেন অম্বেশ। সেই বিয়ে মানতে চাননি তাঁরা। পুত্রবধূকে বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না-এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল পরিবারে।
জানা গিয়েছে, দম্পতির দুই সন্তানও রয়েছে। তবু শ্যাম বাহাদুর ছেলেকে বারবার স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের চাপে স্ত্রীকে আলাদা হওয়ার প্রস্তাব দেন অম্বেশ। স্ত্রী রাজি হলেও ৫ লক্ষ টাকা খোরপোশ (Alimony) দাবি করেন। সেই টাকা জোগাড় করতেই বাবা শ্যাম বাহাদুরের কাছে সাহায্য চান তিনি।
ডিসেম্বর ৮ তারিখে সেই টাকাই হয়ে ওঠে শেষ ঝগড়ার কারণ। পুলিশের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকার করায় বাবা-মায়ের সঙ্গে তুমুল বচসা বাঁধে। এক পর্যায়ে ববিতা (Babita)-কে শিল-বাটা (Grinding stone) দিয়ে আঘাত করে অম্বেশ। স্ত্রীকে আহত অবস্থায় দেখে চিৎকার শুরু করেন শ্যাম বাহাদুর। সাহায্য চাইতে চিৎকার করবেন বুঝে তাঁকেও মাথায় একের পর এক আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধ দম্পতির।
এরপর প্রমাণ লোপাটে নামে অভিযুক্ত। প্রথমে বড় ব্যাগ খুঁজলেও না পেয়ে গ্যারাজে থাকা ছোট বস্তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করে। তার জন্য দরকার হয় দেহ টুকরো করার। গ্যারাজ থেকে করাত (Saw) এনে বাবা-মায়ের দেহ ছ’টি টুকরোয় কাটে সে। বস্তায় ভরে গাড়ির ডিকিতে রেখে ভোরবেলা নদীতে ফেলে দেয় দেহাংশ।
খুনের পর নাটক শুরু। ১৩ ডিসেম্বর অম্বেশের দিদি বন্দনা (Vandana) জাফরাবাদ থানায় (Zafarabad Police Station) নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগে জানান, বাবা-মা ও ভাই-তিনজনই উধাও। বন্দনাকে ফোন করে অম্বেশ জানিয়েছিল, ঝগড়ার পর বাবা-মা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন, সে খুঁজতে বেরিয়েছে। তারপরই ফোন বন্ধ। এই আচরণেই পুলিশের সন্দেহ হয়।
প্রায় এক সপ্তাহ পর ধরা পড়ে যুবক। জেরার মুখে প্রথমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে সব স্বীকার করে নেয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই শ্যাম বাহাদুরের দেহের একাংশ উদ্ধার করেছে। খুনে ব্যবহৃত শিল-বাটা ও করাতও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়ুষ শ্রীবাস্তব (Ayush Srivastava) জানান, ডুবুরি নামিয়ে নদীতে বাকি দেহাংশের খোঁজ চলছে।