ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর সাজা ঘোষণা হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন নিহত কাউন্সিলরের স্ত্রী, পরিবার।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 17 December 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানিহাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর (Panihati TMC councillor) অনুপম দত্ত খুনের ঘটনায় (Anupam Dutta murder case) দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা (Life imprisonment) শোনাল আদালত। বুধবার ব্যারাকপুর আদালত (Barrackpore court) অমিত পণ্ডিত, সঞ্জীব পণ্ডিত ওরফে বাপি এবং জিয়ারুল মণ্ডল - এই তিন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
এর আগে সোমবারই এই তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত (TMC councillor murder case)। ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর সাজা ঘোষণা হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন নিহত কাউন্সিলরের স্ত্রী, পরিবার। অনুপম দত্তের স্ত্রী মীনাক্ষী দত্ত বলেন, “আমরা আরও কঠোর শাস্তি চাইছিলাম। তবে আদালত যা ভাল মনে করেছে, সেটাই করেছে। আমরা আইন এবং আদালতের উপর আস্থা রাখি।”
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ নৃশংস এই খুনের ঘটনাটি ঘটে। সেদিন সন্ধ্যায় আগরপাড়া স্টেশন রোডে নিজের পোষ্যর জন্য ওষুধ আনতে স্কুটিতে বেরিয়েছিলেন পানিহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপম দত্ত। সেই সময় প্রকাশ্য রাস্তায় পিছন থেকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়। হাড়হিম করা সেই দৃশ্য ধরা পড়ে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায়। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এলাকার একটি জমি প্রোমোটিংয়ের উদ্দেশ্যে দখলের চেষ্টা করছিল সঞ্জীব পণ্ডিত ওরফে বাপি। অনুপম এর প্রতিবাদ করায় তাঁর সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়। তার জেরেই খুনের পরিকল্পনা, দাবি তদন্তকারীদের।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, প্রথমে হরিণঘাটার বাসিন্দা জিয়াউল মণ্ডলকে অনুপম দত্তকে খুন করার ‘সুপারি’ দিয়েছিল বাপি পণ্ডিত। চার লক্ষ টাকা নেওয়ার পরেও জিয়াউল খুন করতে টালবাহানা করতে থাকে। পরে সুপারির টাকা ফেরত চাইলে তা না পেয়ে বাপি অমিত পণ্ডিতকে খুনের দায়িত্ব দেয়।
এরপর একদিন জিয়াউলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অমিত। যদিও ভাগ্যজোরে প্রাণে বেঁচে যান জিয়াউল। তার কিছুদিন পরেই অনুপম দত্তকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করে অমিত। খুনের পর পালানোর চেষ্টা করলেও এলাকাবাসীর হাতে ধরে পড়ে সে।
খুনের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় শুটার অমিত পণ্ডিতকে। তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে তদন্তকারীরা আগরপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জীব ওরফে বাপি পণ্ডিতের যুক্ত থাকার হদিস পান। তাঁকে বর্ধমানের কালনা থেকে ধরে এনে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরে গ্রেফতার করা হয়। অমিত ও সঞ্জীব সম্পর্কে আত্মীয় বলেও জানা যায়।
ধৃত দু’জনকে জেরা করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। মামলা চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন সঞ্জীব পণ্ডিত। হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি জামিনে ছাড়া পান। তবে সোমবার তিন অভিযুক্তই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সঞ্জীবকে সেখান থেকেই ফের গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার সকাল থেকেই ব্যারাকপুর আদালত চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুপুরে বিচারক খুন, খুনের চক্রান্ত এবং অস্ত্র আইনে তিন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেন।